Showing posts with label হিপনোটাইজ. Show all posts
Showing posts with label হিপনোটাইজ. Show all posts

Thursday, December 17, 2015

হিপনোটাইজ করার পাঁচটি ধাপ।



একজন মানুষকে হিপনোটাইজড বা
সন্মোহিত করতে যে সেশনটা করা
হয় তাকে বলা হয় হিপ্নোটিক
সেশন। হিপ্নোটিক সেশনটা হয় ৫
ভাগে।
1. pre-talk – এখানে হিপনোটাইজ
করা হবে এমন ব্যাক্তিকে
হিপনোটিজম ব্যাপারটা
সম্পূর্নভাবে এক্সপ্লেইন করতে হবে।
এখানে তার কোনোরকম ক্ষতি
হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই
সেটাও বুঝিয়ে বলতে হবে। নয়তো
বা তার সাবকনসাস মাইন্ড তাকে
সন্মোহিত হতেই দেবে না।
নেতিবাচক মনোভাব বা ভীতির
কারণে অনিচ্ছুক ব্যাক্তিকে
সন্মোহিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
2. induction– এটা এমন একটা প্রক্রিয়া
যেখানে যাকে সন্মোহিত করা
হবে তার স্নায়ুকে শিথিল করে
দিতে হবে। এখানে
সন্মোহনকারীকে থাকতে হবে
দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও অবিচল কিন্তু কোমল
আর অবশ্যই তার সকল আদেশ নির্দেশ
হতে হবে ইতিবাচক। আরাম
চেয়ারে বসিয়ে বা শুইয়ে দিয়ে
তাকে এমন কিছু নির্দেশ
দিতে হবে……
হাতদুটো আরাম করে কোলের উপর
রাখো……
এখন তাকাও আমার হাতের দিকে।
ছোট আঙ্গুলের দিকে তাকাও …
তাকিয়ে থাকো…..
নিশ্বাস নাও ……..অনেক জোরে
নিশ্বাস টেনে নাও বুক ভরে….. ধরে
রাখো……………..
3.deepener – Induction অংশটুকুর মাঝেই
deepener আসে। তার পরও
সন্মোহনকারীও পারিপার্শ্বিক
কিছু এ্যাড করতে পারেন। যেমন
সেদিন দুজনে দুলেছিনু বনে
গানটার সাথে সাথে তাকে
নিয়ে যাওয়া যেতে পারে
চাঁদনীরাতে কোনো সুন্দর মুহুর্তে।
প্রতিটা অর্ডার পজিটিভলী হতে
হবে। সন্মোহনকারীর প্রতিটা কথায়
বাক্যে বা নির্দেশে সন্মোহিত
ব্যাক্তি চলে যাবে আরও
শিথিলতায় আরও রিলাক্সেশনে।
প্রতিটি নিঃশ্বাস
তাকে নিয়ে যাবে আরও আরও
রিলাক্সেশনে। সন্মোহনকারীই
তার সমস্ত ইন্দ্রিয়কে পরিচালিত
করবে সে
কোথায় যাবে কি করবে কি
ভাববে সবকিছুই।
4.suggestion -সন্মোহিত ব্যাক্তির এর
হাতের দু আঙ্গুল এক করে ধরে একটু
চাপ দিয়ে যদি তাকে বলা হয়
তোমার দু আঙ্গুল জুড়ে দেয়া
হয়েছে যাদু দিয়ে এখন দু আঙ্গুল
একসাথেই লেগে থাকবে। বলা
যাবে না তুমি আর আঙ্গুলদুটো
খুলতেই পারবে না। মানে কখনো
নেতিবাচক বা না শব্দটা উচ্চারণ
করা যাবে না। তাহলে সাবকনসাস
মাইন্ড পাওয়ারফুল হয়ে যাবে আর
তা না শব্দটা গ্রহন না করায়
সন্মোহন
কেটে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।
সে যত চেষ্টা করবে ধীরে ধীরে
বলতে হবে যাদুর আঠায় তোমার
আঙ্গুল আরো বেশী জোড়া লেগে
যাচ্ছে।
যখন সে আর পারবে না তখন বলতে
হবে আমি এক, দুই, তিন ( অপেক্ষাকৃত
জোরে)বলার সাথে সাথে
তোমার আঙ্গুলের জোড়া খুলে
যাবে।
ডিপেনার বাড়ানোর জন্য বলা
যেতে পারে ১০ থেকে ০ পর্যন্ত
গুনব। প্রতিটি সংখ্যার সাথে
সাথে তুমি আরো ২ গুন ডিপ এ
চলে যাবে। ১০,৯,৮,৭ এভাবে ধীরে
ধীরে গুনতে হবে। সন্মোহিত
ব্যাক্তির হাতে গ্যাস বেলুন বেধে
দিয়ে বলা যায় যে হাত হাল্কা
হয়ে যাচ্ছে। বেলুন উপরে উঠে হাত
উপরে উঠিয়ে নেবে আরও ৫০/৬০টা
বেলুন বেধে দিয়ে আরও হাল্কা
করে দেয়া যায় হাত যত উপরে উঠবে
বলতে হবে তোমার হাত হালকা
হয়ে উপরে উঠে যাচ্ছে আর তুমি
ভালো ফিল করছো।যত চাইছো ততই
উপরে
উঠছে হাতটা।এবার বেলুন এর সুতো
কেটে দেওয়া যেতে পারে।
প্রথমে হাতটা উঠতে একটু সময়
লাগতে পারে আর তখন একটু হাতটা
উঠাতে সাহায্য করতে হবে তবে
একবার উঠা শুরু করলে আর কোনো
সমস্যা হবে না।
5.awakening -জাগানোর জন্য বলতে
হবে, আমি ১ থেকে ৫ পর্যন্ত গুনব আর
৫ বলার সাথে সাথে তুমি জেগে
উঠবে আর তোমার অনেক ভালো
লাগবে অনেক অনেক।খুব ভালো
একটা ঘুম থেকে জেগে
ওঠার পর তোমার যেমন চনমনে
লাগে ঠিক তেমনি।। অনেক ভালো
লাগবে তোমার। এবার ১ থেকে ৫
পর্যন্ত গোনা শেষ হলেই সন্মোহিত
ব্যাক্তি সন্মোহন কেটে জেগে
উঠবে।

হিপনোটাইজ করার নিয়ম। পর্ব - ১

সবাইকে স্বাধীনতা দিবসের
শুভেচ্ছা। আজ তাহলে আপনাদের
টেকনিক টা শিখিয়ে দেই। তবে আমি
থামছি না। আরও অনেক ব্লগ করবো।
আমি যা জানি সব শেয়ার করবো।
১ টি হিপ্নটিক সেশন এর ৫ টি ভাগ
আছে। প্রতিশব্দের ঝামেলায় না
গিয়ে ইংরেজিতে বলিঃ
1. pre-talk
2. induction
3.deepener
4.suggestion
5.awakening
pre-talk এ আপনি সাবজেক্ট কে পুরো
ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করুন। তার ভুল্গুল
ভাঙ্গিয়ে দিন এবং তার যে ক্ষতি
হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই এসব বলুন।
induction অনেক ধরনের হয়। আগের দিনে
ঘড়ি, ক্রিস্টাল এসব ঝুলিয়ে প্রায় ১-২
ঘণ্টা লাগাত এটার পেছনে। এখন
লাগে ৩-৪ সেকেন্ড এগুলো কে বলে
রেপিড induction । তবে নতুনদের জন্য
চমৎকার ১ টি induction হল dave elman
induction আমি এটা অনুবাদ না করে মুল
স্ক্রিপ্ট টা দিয়ে দিলাম। কারণ অনুবাদ
করতে গেলে হয়ত আমি মুল টা থেকে ১
টু সরে আসব। আর বলার সময় আপনারা ১ টু
সরে জাবেন। তবে সমস্যা হলে আমি
পরে আমার নিজের মত করে বলব।
স্ক্রিপ্ট টি হলঃ
Rest your arms limply on your thighs like this.
Now, I want you to look up at my hand, and fix
your eyes on my little finger.
I will soon ask you to take a long, deep breath,
and to hold it for a few seconds. I will then pass
my hand down in front of your eyes at which time
you will begin to release your breath, as you keep
your eyes fixed on my little finger. As I pass my
hand down, that will cause your eyelids to close
down.
Now, take a long, deep breath, and hold it for a
moment.
I'm now passing my hand down in front of your
eyes, and as I do, let your eyelids close down, and
let go of the surface tension in your body. Just let
your body relax as much as possible right now.
Now, place your awareness on your eye muscles,
and relax every muscle and nerve in and around
your eyes, to the point that they just won't work.
When you're sure, they're so relaxed, that as long
as you hold onto this relaxation, they just won't
work, I want you to hold on to that relaxation and
test them, to make sure they won't work.
All right, that's fine. Now stop trying and just
relax, go deeper now, with each and every breath
you exhale go deeper relaxed.
Now, this relaxation you have in your eyes is the
same quality of relaxation that I want you to have
throughout your whole body. So just let this
quality of relaxation flow through your whole body
from the top of your head to the tips of your toes.
Now, we can deepen this relaxation much more.
In a moment, I'm going to have you open and
close your eyes. When you close your eyes, that's
your signal to let this feeling of relaxation become
10 times deeper. All you have to do is want it to
happen and you can make it happen very easily.
OK, now, open your eyes ... now close your eyes,
and feel that relaxation flowing through your
entire body, taking you much deeper. Use your
wonderful imagination and imagine your whole
body is covered and wrapped in a warm blanket
of relaxation.
Now, we can deepen this relaxation much more.
In a moment, I'm going to have you open and
close your eyes one more time. Again, when you
close your eyes, double the relaxation you now
have. Make it become twice as deep.
OK, now once more, open your eyes ... now close
your eyes, and double your relaxation ... good. Let
every muscle in your body become so relaxed that
as long as you hold onto this quality of relaxation,
every muscle of your body will not work.
In a moment, I'm going to have you open and
close your eyes one more time. Again, when you
close your eyes, double the relaxation you now
have. Make it become twice as deep.
OK, now, once more, open your eyes ... close your
eyes, and double your relaxation ... good. Let
every muscle in your body become so relaxed that
as long as you hold onto this quality of relaxation,
every muscle of your body will not work.
In a moment, I'm going to lift your right hand by
the wrist and drop it. If you have followed my
instructions up to this point, that hand will be so
relaxed, it will be just as loose and limp as a wet
dish cloth, and will simply plop down. Once your
hand touches your body, I want you to send a
wave of relaxation from the top of your head
down to the tip of your toes.
I will now lift your right hand. Just let it hang and
plop down as I let go ... deeper relaxed ... that's
good ...
Now, we'll do that again with your left hand.
When I lift up your hand, just allow it to hang
freely, as loose and limp as wet dish cloth and
plop down as I let go. When it touches your body,
send another wave of relaxation from the top of
your head to the tip of your toes, and double your
present level of relaxation.
I will now lift your left hand. Just let it hang and
plop down as I let go ...
deeper relaxed ...
Now, that's complete physical relaxation. I want
you to know that there are two ways a person
can relax. You can relax physically, and you can
relax mentally. You already proved that you can
relax physically. Now let me show you how to
relax mentally.
In a moment, I'll ask you to begin slowly counting
backwards, out loud, from 100 like this:
100 deeper relaxed ...
99 deeper relaxed ...
98 deeper relaxed ...
Now here's the secret to mental relaxation, with
each number you say, double your mental
relaxation. With each number you say, let your
mind become twice as relaxed. Now, if you do
this, by the time you reach number 96, or maybe
even sooner, your mind will have become so
relaxed, you will have actually relaxed all the rest
of the numbers that would have come after it,
right out of your mind, there just won't be any
more numbers.
All right, begin counting:
100 deeper relaxed ... those numbers will leave if
you will them away
99 deeper relaxed ... allow all those numbers to
just fade away ...
98 deeper relaxed ... now, they'll be gone ...
dispel them ...
97 deeper relaxed ... banish them, push them out.
Make it happen. Complete amnesia of all those
number. Are they all gone? ... Good.
I know how relaxed you are, but even in your
relaxed state I'll bet you sense in your own mind
that there is a state of relaxation below the one
you're in right now. Can you sense that?
(the client answers, "yes")
You know that you can clench your fist and make
it tighter and tighter and tighter - and you might
call that the height of tension. You can relax the
same fist until you can't relax it any more. You
might call that the basement of relaxation. I'm
going to try to take you down to the basement.
To get down to floor A, you have to relax twice as
much as you have relaxed already. To get down
to floor B, you have to relax twice as much as
you did at floor B, and to get down to C, you have
to relax twice as much as you did at floor B. But
when you reach floor C, that is the basement of
relaxation, and at that point you will give off
signs by which I will be able to tell that you are
at the basement. You don't know what these
signs are, and I'm not going to tell you what they
are, but every person who has ever been at the
basement of relaxation gave off those signs ...
Let's get started.
You will ride down to floor A on an imaginary
elevator and you will use that same elevator to
get down to the basement of relaxation. You are
on that elevator now. When I snap my fingers,
that elevator will start down. If you relax twice as
much as you have relaxed already you will be
down at floor A. Tell me when you are at floor A
by saying the letter A out loud.
(Snap fingers) The elevator is starting down ...
now.
(Wait for response)
(Snap fingers) Continuing down to floor B ... now.
(Wait for response)
(Snap fingers, wait, and watch for signs of
depth.)
Continuing down to floor C
এটা মুখস্ত করে নিলে ভালো । প্রথম
প্রথম আমি ১ টা কাগজে স্টেপ গুলা
শর্টকাট এ লিখে রাখতাম। এবং সেটা
লুকিএ রাখতাম। সাবজেক্ট চখ বন্ধ করার
পর সেটা খুলে দেখে দেখে পরতাম।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হল
নিজের উপর বিশ্বাস। কথাগুলো বলার
সময় কোনও দুর্বলতা দেখাবেন না।
স্পষ্টভাবে বলে জাবেন তাতেই কাজ
হবে। আর ১ বার করে ফেললে আর সমস্যা
নাই। পুরো লেখাটা অনেক বড় মনে
হলেউ বলতে ৫ মিনিট লাগবে।
এই ইন্ডাক্সন এর ভেতর বিল্ট ইন deepener
দেয়া আসে। তার পর ও আপনি কিছু
দিতে পারেন । যেমন আপনি বলবেন যে
এখন থেকে পারিপার্শ্বিক যে কোনও
শব্দ তোমাকে আরও ডিপ এ নিয়ে
যাবে। অর্থাৎ ১ টা নেগেটিভ
জিনিস কে আপনি পজেতিভ ভাবে
ব্যাবহার করলেন। এখন বলুন যে,আমার
প্রতিটি কথা তমাক আরও ডিপ এ নিয়ে
যাবে আরও রেলাক্স করবে। তোমার
প্রতিটি নিঃশ্বাস এর সাথে তুমি
আরও রেলাক্স হবে। নিঃশ্বাস ত সে
নিবেই। তাই এটাকে ব্যাবহার করতে
ক্ষতি কি?
এবার তাকে কল্পনায় সুন্দর কোনও
জাইগায় ঘুরাতে পারেন। সমুদ্র তীর বা
অন্য কথাউ। এটা করবেন তাকে ধাতস্ত
হতে ১ টু সময় দিতে। কল্পনা করানর সময়
তার ইন্দ্রিও গুলো ব্যাবহার করান।
আপনি বলে বলে দিবেন যে সে কি
কল্পনা করবে।
এবার আসুন আসল মজায়। সাজেশন ঃ
সাবজেক্ট এর তর্জনী আর ব্রিদ্ধাঙ্গুল এর
মাথা একসাথে রেখে হাল্কা চাপ
দিন। এবার ছেড়ে দিয়ে বলুন যে,
তোমার দান/বাম হাতের আঙ্গুল দুটোর
মাঝে মেজিক গাম লাগিয়ে দেয়া
হয়েছে। তোমার আঙ্গুল দুটো এখন
একসাথে লেগে গেছে। এবং তুমি
ছাড়ানোর চেষ্টা করলেও এগুলো এমন ই
থাকবে ।
( কখনো না বোধক শব্দ বলবেন না। যেমন
বলবেন না যে তোমার আঙ্গুল খুল্বেনা।
কারণ অবচেতন মন না গ্রহণ করবেনা। না
বাদ দিয়ে বাকিটা গ্রহণ করবে)
এবং যেহেতু এটা মাজিক গাম তাই
তুমি যত বেশী ছাড়ানোর চেষ্টা
করবে এটা আগের থেকে আরও শক্ত হয়ে
লাগবে (চমৎকার ১ টি লুপ)। চাইলে
কথাগুলো পুনরায় বলুন সাবজেক্ট কে।
লুপিং টা জোর দিয়ে বলুন।
এবার তাকে আঙ্গুল ছাড়ানোর চেষ্টা
করতে বলুন। সে চেষ্টা করা শুরু করলে
তাকে বলতে থাকুন যে এটা আরও শক্ত
ভাবে লাগছে।
এভাবে ১০১ টা মজা করা যায়। মজার
শেষ নেই।
হাত যদি ছাড়াতে না পারে তবে বলুন
যে , আমি ১,২,৩ গুনব। ৩ বলার সাথে
সাথে আঙ্গুল খুলে যাবে। এবার ১,২,৩
বলুন। ৩ টা একটু জোর দিয়ে বলুন।
এবার তাকে আরেক্তু ডিপেনার
দিতে পারেন। বলুন যে আমি ১০ থেকে
০ পর্যন্ত গুনব।প্রতিটি সংখ্যার সাথে
সাথে তুমি আরও ২ গুন ডিপ এ চলে
যাবে। ১০,৯,৮,৭ এভাবে আস্তে আস্তে
গুনুন।
এবার অন্য কিছু করতে পারেন।
সাবজেক্ট কে বলুন যে সে কল্পনা করুক
যে তার ডান হাত ধীরে ধীরে
লোহার মত শক্ত হয়ে যাচ্ছে। তার হাত
টা সোজা করে সাম্নের দিকে ধরুন
আপনি। এবার বলতে থাকুন যে তার হাত
টা ধীরে ধীরে শক্ত হয়ে জাসসে ।
একদম লোহার মত শক্ত। হাতের মাসল,
হার সব লোহার মত শক্ত হয়ে যাচ্ছে। লুপ
দিতে পারেন। বলেন যে তোমার হাত
যত শক্ত হচ্ছে তুমি তত শক্তি অনুভব করছ।
আর যত শক্তি অনুভব করছ তত শক্ত হচ্ছে।
হাত শক্ত হলে আবার আগের মত ৩,২,১
গুনে নরমাল করুন।
হাতে গ্যাস বেলুন বেধে দিতে
পারেন। বলুন যে হাতে বেলুন বেধে
দেয়া হল হাত হাল্কা হয়ে যাচ্ছে।
বেলুন গুলো উড়ে যাচ্ছে আর হাত
তাকেউ উপরের দিকে টানছে। আরও ৫০
টি বেলুন বেধে দেয়া হল। আরও হাল্কা
হচ্ছে হাত। আরও উপরের দিকে যাচ্ছে।
যত উপরে যাচ্ছে তোমার তত ভালো
লাগছে। যত ভালো লাগছে তত উপরে
জাচ্ছে।এবার বেলুন এর সুতা কেটে
দিন।
প্রথম এ হাত উঠতে একটু সময় লাগে। হাত
টা একটু উঠিয়ে দিতে পারেন। একবার
উঠা শুরু করলে আর সমস্যা নেই।
জাগানোর জন্য বলুন যে আমি ১ থেকে
৫ পর্যন্ত গুনব। ৫ বলার সাথে সাথে তুমি
পুরোপুরি জেগে উঠবে এবং তোমার
অনেক ভালো লাগবে। ঘুম থেকে উঠার
পর সরির যেমন ঝরঝরে লাগে তেমন
ঝরঝরে লাগবে। অনেক ভালো লাগবে।
এবার ১ থেকে ৫ পর্যন্ত গুনুন সাবজেক্ট
উঠে যাবে।
আজ এখানেই থাকুক। চেষ্টা করে
দেখেন।আশা করি পারবেন।আমি প্রথম
বারেই পেরে গেছি। আর কাউকে
জোর করে সাবজেক্ট বানাবেন না।
জার আগ্রহ আছে তাকে বানান।
আপনার জন্য সহজ হবে। আর হোক বা না
হোক আমাকে জানাবেন।অপেক্ষায়
থাকলাম। কোনও সমস্যা হলেউ
জানাবেন। আর কোনও ভুল করে থাকলে
সেটা সবার আগে জানাবেন। ধন্যবাদ
সবাইকে। আরও অনেক কিছু শেয়ার করার
বাকি আছে।

আপনি কি এই মুহুর্তে কোন ভাবে হিপনোটাইজড?

আমার কথাবার্তার যে ভঙ্গি, তাতে
যদি কোন মহা মনীষীর কোন একটা
সিরিয়াস তত্বও কাউকে বুঝিয়ে বলতে
থাকি। বিরক্ত হয়ে সে ভাবে, আমি
মনে হয় গুরুত্বপূর্ণ কিছু নিয়ে হাসি
তামাশা করছি। একারণেই অনুবাদ
আমাকে দিয়ে ঠিক হয়না। কিন্তু একটা
কাজ হয়না বলে তো আর ক্ষান্ত
দেওয়ার লোক আমিনা। আর আমার
অভিজ্ঞতা বলে, হাসিতামাশাও
অনেকে পছন্দ করে। মানে আমি নিজে
অন্তত করি। তাই এই অনুবাদ প্রচেষ্টা।
কিছুনা হোক প্রাকটিস তো হোক।
আরো অনেক বিজ্ঞানীর মত ফাইনম্যান
আমার প্রিয় একজন। তবে বেশ কিছু
কারণে আমি ফাইনম্যানের একটু বেশিই
ফ্যান। কোয়ান্টাম ইলেক্ট্রো
ডাইনামিক্স এবং কোয়ান্টাম
কম্পিউটেশনের জনক। তার একটা দারুণ বই
আছে “শিওরলি ইউ আর জোকিং
মিস্টার ফাইনম্যান” নিজের
ছাত্রজীবনের বিভিন্ন মজার বিষয়
নিয়ে লেখা। ইস্নিপ্সের কল্যানে
সেটা হাতে পেয়েছি। এই মহান
বিজ্ঞানী যে কতটা মজার একজন মানুষ
তা বোঝা যায় এই বইএ। ক্যালটেকে
দেওয়া তার পদার্থবিজ্ঞানের
লেকচার নিয়ে তিন ভলিউমের একটা
বই আছে। " দি ফাইনম্যান লেকচার অন
ফিজিক্স ” সেই বইএর কিছু কিছু অংশ
অনুবাদ করার ইচ্ছা আছে শিঘ্রই। সেজন্যই
আজকের এই প্রাকটিস ম্যাচ। ফাইনম্যান
কে পছন্দ করার একটা কারণ হচ্ছে তার
একটা বিশ্বাস। সে বিশ্বাস করত ‘আমি
যদি একটা প্রথম বর্ষের ছাত্র কে পদার্থ
বিজ্ঞানের কোন একটা বিষয়, তা যত
অ্যাডভান্সডই হোক না কেন, বুঝিয়ে
বলতে না পারি তাহলে আমি নিজেই
সেটা বুঝিনি’। তাই তার
লেকচারগুলো খুবই সুখপাঠ্য এবং বোধগম্য।
আজকের এই অংশ ‘শিওরলি ইউ আর
জোকিং মিস্টার ফাইনম্যান’ থেকে
নেওয়া “Meeeeeeeeeee!” নামক অনুচ্ছেদের
অনুবাদ। এই অনুচ্ছেদে হিপনোটিজম
নিয়ে মজার কিছু ঘটনা আছে। তবে একটু
খেয়াল করলেই আমরা একটা দারুণ
জিনিস শিখে নিতে পারি এখান
থেকে। পড়ার আগে জেনে রাখা ভাল
যে প্রিন্সটনে গ্রাজুয়েট ছাত্র অবস্থায়
ফাইনম্যান তার প্রচন্ড মেধা আর দারুণ
দুষ্টুমির জন্য পুরো ভার্সিটিতে
সুপরিচিত ছিলো। অনুবাদ শুরু হল:
আমিইইইইইইইইইইই!
প্রতি বুধবারে প্রিন্সটন গ্রাজুয়েট
কলেজে বিভিন্ন লোক এসে নানা
বিষয়ে লেকচার দিত। বেশিরভাগ
বক্তারাই হত ইন্টারেস্টিং স্বভাবের।
তাই লেকচারের শেষে আলাপ
আলোচনার সময় তাদের সাথে অনেক
মজা হত। যেমন এক বক্তা ছিলো আন্টি -
ক্যাথলিক। প্রতি বক্তৃতার আগে সে
আমাদের হাতে বিভিন্ন প্রশ্ন ধরিয়ে
দিত। যাতে আমরা সেসব প্রশ্ন করে
কোন ধর্মগুরু(বক্তা) কে জ্বালাতে
পারি। আমরা এই লোককেও অনেভাবে
যন্ত্রনা দিতাম।
আরেকবার একজন বক্তৃতা দিল কাব্যের
উপর। তার বিষয় ছিল কবিতার গঠন আর
তার সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন আবেগ
নিয়ে। বক্তৃতার মধ্যে সে কবিতার
আবেগিক সংগঠন সমুহকে বেশ কয়েকটি
নির্দিষ্ট শ্রেনীতে ভাগ করে ফেলল!
তারপর বক্তৃতার শেষে আলোচনার সময়
বলল, “ব্যপারটা ঠিক গণিতের মত। তাই
না, ডক্টর আইজেনহার্ট?”
ডক্টর আইজেনহার্ট ছিলেন গ্রাজুয়েট
কলেজের ডীন এবং একজন গণিতের
প্রফেসর আর বেশ চালাক চতুর স্বভাবের।
প্রশ্নটা এড়িয়ে গিয়ে তিনি বললেন,
“আমি বরং জানতে চাইবো ফাইনম্যান
এটাকে তাত্বীক পদার্থবিজ্ঞানের
সাপেক্ষে কিভাবে দেখে”। সে
প্রায়ই চালাকি করে এধরণের
পরিস্থিতি আমার ঘাড়ে চাপিয়ে
দিত।
আমি সিরিয়াস ভঙ্গিতে উঠে
দাঁড়িয়ে বললাম, “হ্যাঁ, এরা আসলেই
খুবই কাছাকাছি সম্পর্কিত। যেমন
কবিতার মত তাত্বিক পদার্থ
বিজ্ঞানে শব্দের বদলে আছে
গাণিতিক সূত্র, আর সেখানে কবিতার
সঙ্গঠনের সদৃশ হচ্ছে তাত্বীয়...
এটাসেটা এবং এইসেই...” এভাবে
অনেক্ষন বকবক করে আমি দুইটা
জিনিসের মধ্যে একটা নিখুদ সদৃশ
টানলাম। সেই বক্তা ততক্ষনে খুশিতে
জ্বলজ্বল করছে।
এরপর আমি বললাম, “আমার মনে হয় আপনি
কবিতা সম্পর্কে যাই বলেন না কেন,
আমি ঠিকই যে কোন বিষয়ের সাথে
তার একটা সদৃশ টানতে পারব। যেভাবে
তাত্বীক পদার্থবিদ্যার সাথে
টানলাম এখন। আমার কাছে এধরণের
সাদৃশ্যের কোন মানে নেই।
রঙীন কাচের জানালা ওয়ালা একটা
বড়ো ডাইনিং হলে আমরা প্রতিদিন
খেতাম, প্রতি খাওয়ার শুরুতে ডীন
আইজেনহার্ট ল্যাটিন ভাষায় ছোট্ট
একটা প্রার্থনা করত। মাঝে মাঝে
ডীনার শেষে সে উঠে দাঁড়িয়ে কোন
একটা ঘোষনা দিত। যেমন এক রাতে
দাঁড়িয়ে বলল, “দুই সপ্তাহ পরে একজন
মনস্তত্ব বিদ্যার অধ্যাপক আসবেন
বশীকরণের উপর বক্তৃতা দিতে। এখন এই
প্রফেসর মনে করেন বক্তৃতাটা আরো
ভালো হবে যদি তিনি হিপনোসিস
সম্পর্কে শুধু মুখে না বলে সবার সামনে
কাউকে হিপনোটাইজ করে দেখান।
তাই তার হিপণোটাইজড হতে ইচ্ছুক, এমন
কিছু ভলেন্টিয়ার লাগবে”।
এই খবর শুনে আমি রীতিমত উত্তেজিত
হয়ে গেলাম। হিপনোটাইজ হতে না
চাওয়ার কোন প্রশ্নই আসেনা। ব্যপারটা
নিশ্চই দারুণ কিছু হবে!
ডীন আইজেনহার্ট বলতে থাকলেন,
আরো ভাল হয় যদি তিনচার জন
ভলেন্টিয়ার আগে থেকে সেই
প্রফেসরের সাথে যোগাযোগ করে।
যেন তিনি আগেই একবার তাদের উপর
পরীক্ষা করে বুঝতে পারে যে কাকে
কাকে সে হিপনোটাইজ করতে
পারবে। ততক্ষনে আমার উত্তেজনা
আরো বেড়ে গেছে। এরপর আইজেনহার্ট
আমাদের কাছে ‘আকুল আবেদন’ করলেন
যেন আমরা কেউ ভলেন্টিয়ার হতে
রাজি হই! (হায় খোদা!)
আইজেন হার্ট ছিলেন ডাইনিং হলের
এক পাশে আর আমি ছিলাম অনেক
পিছনে সম্পুর্ণ বিপরীত দিকে। আরো
কয়েকশ ছেলে ছিল সেখানে। আমি
জানতাম অন্য সবাইও এই সুযোগের জন্য
মুখিয়ে আছে, ভয় পাচ্ছিলাম যে এত
পিছনে থাকাতে সে হয়তো আমাকে
দেখতেই পাবেনা। যেকরেই হোক এই
ডেমন্সট্রেশনে আমাকে যেতেই হবে!
এর পর যেইনা আইজেনহার্ট বলল, “ ...এবং
এজন্য তোমাদের মধ্যে কি কেউ
ভলেন্টিয়ার হতে ইচ্ছুক?”
আমি লাফ দিয়ে চেয়ার থেকে উঠে
হাত উচু করে, “আমিইইইইইইইইইইই!” বলে
সর্বশক্তি দিয়ে ভয়ানক এক চিৎকার
দিলাম। যাতে আমাকে খেয়াল না
করা কোন সম্ভবনাই না থাকে।
অবশ্য সে আমাকে ঠিকই শুনতে
পেয়েছিল। কারণ ডাইনিং হলের আর
একটা ছেলেও টু শব্দটিও করেনি। কিন্তু
তখনো সেই চিৎকার সেই সুবিশাল
ডাইনিং হলে ধ্বনিত্ব-প্রতিধ্বনিত্ব
হচ্ছে। পুরো ব্যপারটাই ছিল খুবই
বিব্রতকর।
শেষমেষ অবশ্য আরো কয়েকজন
ভলেন্টিয়ার পাওয়া গেল।
ডেমন্সট্রেশনের সপ্তাহ খানেক আগে
সেই প্রফেসর আসলো আমাদের উপর
পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে যাতে
সবচেয়ে সুইটেবল ভলেন্টিয়ার কে
খুজে বের করা যায়। বশীকরণ প্রকৃয়া
সম্পর্কে আমার আগেই জানা ছিল
কিছুটা, কিন্তু হিপনোটাইজড হতে
কেমন লাগবে, সেটাই ছিল মূল আকর্ষণ।
সে আমার উপর বশীকরণ শুরু করল, এবং একটু
পরেই আমি এমন অবস্থায় পৌছলাম যখন
সে বলল, “এখন তুমি আর তোমার চোখ
খুলতে পারবে না।”
আমি মনে মনে ভাবলাম, “চোখ তো
আমি চাইলেই খুলতে পারব, কিন্তু খুলব
না, দেখি এই ব্যাটা আর কতদূর কি করে”
পুরো সিচুয়েশনটাই ইন্টারেস্টিং: যেন
তোমার চিন্তাভাবনা যাস্ট একটু
ঘোলাটে হয়ে গেছে, এবং যদিও তুমি
কিছুটা অবচেতন হয়ে গেছ, তারপরও তুমি
পুরোপুরি নিশ্চিত যে তুমি চাইলেই
তোমার চোখ খুলতে পারবে। কিন্তু
আসলে তুমি তা করছ না, অন্যভাবে
দেখলে তুমি আসলে চোখ খুলতে পারছ
না!
সে আরো অনেক কিছু করল, এবং শেষে
সিদ্ধান্ত নিলো যে আমাকে দিয়ে
চলবে।
আসল প্রদর্শনীর দিন সে আমাদের
(ভলেন্টিয়ার) সবাইকে স্টেজের উপর
নিয়ে গেল তারপর পুরো প্রিন্সটন
গ্রাজুয়েট কলেজের সামনে আমাদের
হিপনোটাইজ করে ফেলল। এইবার তার
বশীকরণের প্রভাব ছিল আগের চেয়ে
শক্তিশালী, এর একটা কারণ হতে
পারে যে, আমি আগে একবার
প্রাকটিস করেই কিভাবে
হিপনোটাইজ হতে হয় তা ভালমত শিখে
গেছি। সে আমাকে দিয়ে এমন অনেক
কিছু করালো যা নরমাল অবস্থায় আমি
এমনিতে করতাম না। এবং সব শেষে সে
বলল, হিপনোটাইজড অবস্থা থেকে বের
হয়ে নিজের সিটে ফিরে যাবার সময়
আমি নাকি সোজাসুজি না গিয়ে
পুরো হল ঘুরে পিছন দিক দিয়ে যাবো!
পুরো ডেমন্সট্রেশনের সময়টাতেই আমি
আবছা ভাবে হলেও হিপনোটিস্টের
কর্মকান্ড সম্পর্কে পুরোটা সময় সচেতন
ছিলাম। আর ইচ্ছা করেই সহযোগিতা
করছিলাম তাকে। কিন্তু এইবার
ভাবলাম, ‘ধুরো! অনেক হয়েছে, আর না।
আমি সোজা গিয়ে নিজের সীটে
বসে পড়ব।’
ডেমো শেষে উঠে নিজের সিটে
যাবার সময় সোজা নিজের সিটের
দিকে রওনা দিলাম। কিন্তু তখনই কেমন
যেন একটা অস্বস্তি হতে লাগল।
অস্বস্তিটা এতই বেড়ে যাচ্ছিল যে
আমি আর সোজা যেতে পারলাম না।
পুরোটা হলে ঘুরে গেলাম!
পরে অন্য এক সময় এক মহিলাও আমাকে
হিপনোটাইজ করেছিল। সেবার আমি
হিপনোটাইজড অবস্থায় থাকতে সে
বলেছিল, “এখন আমি একটা ম্যাচের
কাঠি জ্বালাবো, তারপর ফু দিয়ে
নিভিয়েই সাথে সাথে তোমার
হাতের পিছনে চেপে ধরব। কিন্তু তুমি
কোন ব্যথা পাবেনা”
আমি ভাবলাম, ‘হাহ্ আজগুবি!’ তারপর
সে একটা ম্যাচ নিল, সেটা
জ্বালালো, ফু দিয়ে নিভিয়েই আমার
হাতের পিছনে চেপে ধরল। আমার
হাতে খুবই অল্প গরম একটা আঁচ লাগলো
যেন। পুরোটা সময় আমার চোখ বন্ধ ছিল,
তাই আমি ভাবছিলাম, ‘ও এই ব্যপার! সে
নিশ্চই ম্যাচের একটা কাঠি
জ্বালিয়েছে, কিন্তু ছোয়ানোর সময়
অন্য একটা কাঠি ছুইয়েছে। এর মধ্যে
কোন ব্যপার-স্যপার নাই। পুরাটাই
ভগিজগি’
কিন্ত সবচেয়ে বড় সারপ্রাইজটা
পেয়েছিলাম হিপনোসিস থেকে বের
হয়ে নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে!
হাতের পিছনে একটা জ্বলজ্যান্ত
পোড়া দাগ ছিল। একটু পরেই সেখানে
ফোস্কা পড়ে গেল। মজার ব্যপার হল,
এটা কখনই ব্যথা করেনি। এমন কি
ফোস্কাটা ফেটে যাবার সময়ও!
হিপনোসিস তাই আমার কাছে খুবই
ইন্টারেস্টিং একটা অভিজ্ঞতা। যেন
পুরোটা সময় তুমি নিজেকে বলছ, “এটা
তো আমি চাইলেই করতে পারব, কিন্তু
এখন করবনা”--যেটা কিনা একটু
অন্যভাবে বলা, যে তুমি আসলে
পারবে না!!

Saturday, November 7, 2015

'হিপনোটাইজ' বা সম্মোহন কি পদ্ধতিতে বা কৌশলে করা হয়? এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা কি? পর্ব - ১

জোবায়ের রহমান
৮ মার্চ ২০১৫

হিপনোসিস শব্দের অর্থ সম্মোহন।
একজনের চরম প্রস্তাবনা, তীব্র আবেগ ও
কল্পনা শক্তি দ্বারা অন্যের মনকে
প্রভাবিত করা এবং পরিচালনা
করাকে বলা হয় হিপনোসিস।
প্রাচীন কাল থেকেই সম্মোহন বিদ্যা
প্রচলিত রয়েছে মানব সমাজে। সে
কালে এই বিদ্যাকে যাদুবিদ্যা বা
অলৌকিক ক্ষমতা বলে মানুষ বিশ্বাস
করত। অষ্টাদশ শতকে সম্মোহন বিদ্যার
নামকরণ হয় ‘মেজমেরিজম’ অষ্ট্রিয়ার
ভিয়েনা শহরের ডাক্তার ফ্রাণ্ডস্
অ্যান্টন মেজমার সম্মোহন বিদ্যার চর্চা
শুরু করেন। ফলে এর ব্যাপক প্রচার শুরু হয়
এবং ডাক্তারবাবুর নামানুসারে সবাই
একে ‘মেজমেরিজম’ বলতে থাকে। ১৮৪০
সালে স্কটল্যাণ্ডের এক ডাক্তার জেমস
ব্রেড নতুন নামকরণ করেন। গ্রিক শব্দে
ঘুমের দেবতার নাম ‘হুপ্নস’ এই শব্দের অর্থ
হল ঘুম। সম্মোহিত ব্যক্তি যে হেতু এক
প্রকার ঘুমের ঘোরে কাজ করে যায় তাই
ডাক্তার ব্রেড এই বিদ্যার নাম দিলেন
‘হিপনোটিজম’ এ নামই বর্তমানে
প্রচলিত।
কি ভাবে সম্মোহন করা হয় তা জানা
গেলেও আসলে কি ঘটে এ পূর্নাঙ্গ
ব্যাখ্যা বিজ্ঞান এখনও দিতে
পারেনি। কারণ মানুষের মন কিভাবে
কাজ করে এটা আসলে অনেক বড়
বিভ্রান্তির মধ্যে এক টুকরা ছোট
বিভ্রান্তি।
এটি এক ধরণের চরম প্রস্তাবনা,
শিথিলতা এবং তীব্রতার কল্পনা
শক্তির দ্বারা একটি অস্বাভাবিক
স্বপ্নায়ন মোহগ্রস্তের অবস্থার বৈশিষ্ট্য
বর্ননা করে। যা অনেকটা ঘুমের মত মনে
হলে আসলে ঘুম নয়। কারন বিষয়টি পুরো
সময়জুড়ে সজাগ থাকে। অধিকাংশ সময়
একে দিবা স্বপ্নের মত মনে হয়। অথবা
কোন বই বা মুভিতে নিজেকে
হারিয়ে ফেলার মত।
হিপনোসিস চলাকালীন সময়ে
মস্তিষ্কের সচেতন অংশকে
সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রনে নিয়ে ঐ
ব্যক্তির বিক্ষিপ্ত চিন্তাগুলোকে
কেন্দ্রীভূত করা হয় এবং তাকে
রিলাক্স করার দিকে মনোনিবেশ করা
হয়। যখন আমাদের মন কোন একটি দিকে
নিবিষ্ট হয়, কেন্দ্রীভূত হয় তখনই আমরা
শক্তি অনুভব করি। যখন কোন ব্যক্তি
সম্মোহিত হয় তখন আমরা তার মাঝে
কিছু শারীরিক পরিবর্তন ও লক্ষ্যনীয় হয়।
যেমন তার নাড়ীর স্পন্দন ও কমে যায়,
শ্বাস প্রশ্বাস ও কমে যায়। সেই সাথে
তার মস্তিষ্কের আলফা স্তরে ঢেউ
খেলতে থাকে। এই সময়ে ঐ ব্যক্তিকে
কোন একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যে বা বিশেষ
কোন নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে এর ব্যাপক ব্যবহার
রয়েছে।
চিকিৎসা বিজ্ঞানে এই বিদ্যাকে
ব্যবহার করতেন ইংল্যাণ্ডের ডাক্তার
এস ডেল। তিনি সম্মোহনের সাহায্যে
রোগীকে ঘুম পাড়িয়ে দাঁত তুলতেন,
ছোটখাট অপারেশনও করতেন।





দীপ্তি
৮ মার্চ ২০১৫

“হিপনোসিস অত্যন্ত বৈজ্ঞানিক
চিকিৎসা পদ্ধতি। এর মধ্যে অবাস্তব-
ভুতুড়ে কিছু নেই। আসলে মানুষের অনেক
অবদমিত বিশ্বাস বা ভাবনা থাকে।
তার থেকে মানসিক রোগ হতে পারে।
হিপনোটাইজড অবস্থায় সে এমন অনেক
ঘটনার কথা বলে যার পুরোটাই তার
‘ফলস মেমারি’। কিন্তু সেটা বলে
ফেলার ফলে মনের ভার কেটে যায়
এবং সেই মানুষ মানসিক ভাবে সুস্থ
হয়ে যায়।” হিপনোটিক থেরাপিতে
শরীর ও মনের রোগ সারানো, পূর্বজন্মে
ফিরে যাওয়া, স্পিরিট রিলিজ কেউ
বলছেন ‘বৈজ্ঞানিক’, কারও কাছে
আজগুবি, বুজরুকি, কেউ মনে করেন
ব্ল্যাকম্যাজিক, আবার কারও ব্যাখ্যায়
অর্ধেক সত্যি-অর্ধেক কল্পনা।
সত্যি-মিথ্যা, বিশ্বাস-অবিশ্বাস
মিলিয়েই চিকিৎসাশাস্ত্রে জায়গা
করে নিয়েছে সম্মোহনবিদ্যা।
পেয়েছে ‘অলটারনেটিভ সায়েন্স বা
অলটারনেটিভ থেরাপি’-র মর্যাদা।
সম্মোহনচর্চা জানলে তা প্রয়োগ করে
আর্থ্রারাইটিস, হাইপারথাইরয়েডিজম
থেকে শুরু করে অ্যাজমা, ক্রনিক হজমের
সমস্যা, মদ বা ধূমপান অভ্যাস, বন্ধ্যাত্ব,
স্ট্রোকের ফলে হওয়া পঙ্গুত্ব,
অ্যাংজাইটি, মাইগ্রেন, বাত বা
ক্যানসারের যন্ত্রণা, অনিদ্রা,
ফোবিয়া, উচ্চরক্তচাপ, ওজন বৃদ্ধিসমূলে
মিটিয়ে দেওয়া যায়। কাউকে দেখে
মনে হয় যেন কত দিনের চেনা, যেন
কোথায় দেখেছেন। কোনও জায়গা
প্রথম বার চাক্ষুষ করেও মনে হয় যেন
আগে কখনও এসেছেন। এটাও
হিপনোসিস। কারও সঙ্গে কথা বলতে খুব
ভাল লাগে বা কথা বলতে গিয়ে
বারবার মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে যান। সম্মোহনের
এর থেকে বড় উদাহরণ আর কী হতে
পারে? “আফটারঅল, মানুষের মস্তিষ্কের
থেকে শক্তিশালী কিছু নেই। আর
কোনও মানুষের মস্তিষ্কের জোর অন্য
মানুষের চেয়ে বেশি হলে সে অন্যকে
বাগে আনতে চাইবে। হিপনোসিসের
মাধ্যমে সেটা বৈজ্ঞানিক ভাবে
সম্ভব।” স্রেফ কথা বলে লোককে
হিপনোটাইজ করে তিনি শারীরিক
স্থূলতা-র মতো সমস্যার সমাধান করতে
পারেন একজন হিপনো বিশেষজ্ঞ ! “খুব
সহজ। কথার মাধ্যমে হিপনোটাইজ করে
এমন একটা ধারণা ঢুকিয়ে দেয়া হয়
যাতে তাঁর মনে হতে থাকে যে তাঁর
পাকস্থলীটা ছোট হয়ে গিয়েছে।
যেমন অনেকটা বেরিয়াট্রিক
সার্জারি করালে হয়। তাঁর ওজন কমে!”
এমনকি একজন হিপনো বিশেষজ্ঞ
চাইলে মানুষকে তাঁর পাঁচ জন্ম আগে
নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রাখেন ! “ধকল
তেমন কিছুই হয় না! মানসিক ভাবে
হুঁশিয়ার, শক্তিশালী, সচেতন থাকতে
হয়। মনের গতি দুর্দমনীয়। তার তল
পাওয়াও সহজ নয়। মনখননের যাবতীয়
উত্তেজনা নিয়ে চলতে থাকে
হিপনোসিস।





গাজী আজিজ
৮ মার্চ ২০১৫
আমি আদি সত্যটি তুলে ধরছি। কেননা
সত্য বলা আল্লাহর ইবাদত। আমি জানি
যাদু বিদ্যা, সম্মোহনী বিদ্যা, ফুক ঝাড়
করা, জীনের আছর করা, তাবিজ দেয়া
এইগুলি একই সুতে বাধা। একই সরাব,
বিভিন্ন লেভেল আঁটা বোতলে
রাখা। আমি জানি আমার কথা শতকরা
৯৯% জনের কাছে বিশ্বাস হবেনা।
আমার সবার্থকতা, আমি সত্য বলেছি।
এসব বিদ্যা রপ্ত করে, সরে এসেছি,
মিথ্যার জৌলস দেখে। পবিত্র কোর-আন
পাঠে অনুধাবন করেছি, মহান আল্লাহ
তায়লার সত্য ঘোষনা। পবিত্র কোর-
আনে বলা হয়েছে, যাদু হলো মিথ্যার
উপস্থাপনা মাত্র। আমি নিজে যাদু
বিদ্যা রপ্ত করেছি, নতুন নতুন যাদু সৃষ্টি
করেছি, কত জীন ছাড়িয়েছি তা গুনে
বলতে পারবনা। যাদু মঞ্চে অতি
উৎসাহী কেহ খুব বেশী এগিয়ে গেলে
সম্মোহনী বিদ্যার নামে ঘুম বা চেতনা
শুন্য করেছি। কিন্তু যে দিন স্রষ্টার
কোর-আন বুঝার অভিপ্রায়ে কোর-আন
পাঠ করেছি। যাদুর উপর আয়াতগুলি পাঠ
করে আনুধাবন করেছি, আল্লাহর সত্য
ঘোষনাকে। বুঝতে পেরেছি কেন
আল্লাহ এসব বিদ্যাকে হারাম
করেছেন, বুঝতে পেরেছি কেন এইসব
বিদ্যাকে কবিরা গুনাহে ভুষিত
করেছেন। আল্লাহর দরবারে খাস তওবা
করে সরে এসেছি এসকল মিথ্যার
বেড়াজাল থেকে। এসব বিদ্যা মিথ্যা,
বানোয়াট এবং নির্লজ্জ প্রতারনা।
কিছু হাতের কারসাজি, কিছু
কেমিক্যাল এফেক্ট মাত্র। একটা
সত্যকে মিথ্যা দিয়ে উপস্থাপনা করা
হয় মাত্র। কথার বেড়াজালে ফেলে
মানুষের চিন্তাকে অন্য পথে ধাবিত
করে প্রকৃত সত্যকে আড়াল করে মিথ্যার
উপস্থাপনা করে। এর নাম যাদু বিদ্যা।
আর সম্মোহনী বিদ্যাতো আরো
খারাপ। কেমিক্যালের ফাঁদে ফেলে
একজন মানুষের চেতনা নষ্ট করা। প্রকৃত
সত্য প্রকাশ পেলে তা হবে আইনগত
ভাবে দন্ডনীয় অপরাধ। মানুষ
মিথ্যাকেই বিশ্বাস করে। সত্য সামনে
আসলেও এড়িয়ে যায়। তাই এমন হীন
প্রতারনাও থেমে যাবেনা বরং
দোদন্ডপ্রতাপেই এগিয়ে যাবে এমন ঘৃন্য
প্রতারনা।



দস্যু বনহুর
৯ মার্চ ২০১৫

১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে হিপনোটিজম নিয়ে
গবেষণার জন্য ইংল্যান্ডে প্রতিষ্ঠিত
হয় ‘The Society for Psychical Research’। ১৮৯২
খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ মেডিক্যাল
অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক নিযুক্ত একটি
কমিটি বিস্তর অনুসন্ধানের পর রায় দেয়
হিপনোটিজম একটি বিজ্ঞানসম্মত
পদ্ধতি। এরপর যত দিন এগিয়েছে তাবড়-
তাবড় চিকিৎসক-বিজ্ঞানীরা এই
বিদ্যাটির বিষয়ে অত্যুৎসাহী হয়ে
পড়েছেন। সেইসঙ্গে শুরু হয়েছে
নিত্যনতুন গবেষণা। অতএব এটা বলার
অপেক্ষা রাখেনা যে সম্মোহন বা
হিপনোটিজম একটা বৈজ্ঞানিক
পদ্ধতি। পৃথিবীতে অনেককিছুই
যুক্তিযুক্ত ভাবে ঘটে কিন্তু মানুষের
ঘটে সরাসরি সেই যুক্তি খুব সহজেই
পৌছেনা বলেই সময় নিয়ে সেটা
গবেষনা করে যুক্তি বের করে নয়ত, দৈব
কোনকিছু বলে ছুড়ে ফেলে দেয়।
জেনে রাখুন, হিপনোটাইজড সবাইকেই
করানো সম্ভব। অনেকে মনে করেন, প্রবল
ইচ্ছাশক্তিসম্পন্ন মানুষকে হিপনোটাইজ
করা যায় না। এটি একটি ভ্রান্ত
ধারণা। দেখা গেছে,
মোটামুটিভাবে কোনো জনসংখ্যার
৯০ শতাংশকে হিপনোটাইজ করা যায়।
বাকিদের ক্রমশ উপযুক্ত ট্রেনিংয়ের
মাধ্যমে হিপনোথেরাপিতে অভ্যস্ত
করে তোলা যায়। হিপনোথেরাপি
পদ্ধতি খুব সহজ।অবশ্য হিপনোথেরাপির
আসল জোর মোটেই পদ্ধিতে নয়,
সাজেশনে। হিপনোথেরাপির উদ্দেশ্য
কাউকে হিপনোটাইজ করা নয়,
রোগীকে তাঁর সমস্যা থেকে উদ্ধার
করা। হিপনোথেরাপি হল
প্রোগ্রামিং অফ সাবকনসাস মাইন্ড।
এটা অনেক দ্রুত পদ্ধতি, যা কিনা
সমস্যার মূলে সরাসরি হিট করতে
পারে। তবে সাজেশন ঠিকঠাক না-
হলে মনের প্রোগ্রামিংয়ে হয়ে
যেতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে
একটা-দুটো অতিরিক্ত শব্দ গ্রহণ বা বর্জন
সর্বনাশ ডেকে আনতে পারে। অতএব
যথেষ্ট অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত
হিপনোথেরাপিস্ট ছাড়া অন্য কারও
কাছে থেরাপি নেওয়া উচিত নয়। বহু
রকমের অসুখ-বিসুখ সারানো সম্ভব
হিপনোথেরাপির মাধ্যমে। সারানো
যায় বললে কম বলা হয়, বলা উচিত
এক্কেবারে নির্মূল করা যায়, তাও
বিনা ওষুধে। যথাযথ ব্যক্তিত্ব ও
কেরিয়ার গঠনেও হিপনোথেরাপি
ভালো কাজ করে। এ ছাড়া লেখক,
শিল্পী, খেলোয়াড়, চিকিৎসক সকলেই
তাদের কাজ ভালোভাবে করতে
পারে যদি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিয়মিত
হিপনোসিস অনুশীলন করেন। নোবেল
পুরস্কারপ্রাপ্ত ফরাসি ফিজিওলজিস্ট
চার্লস রিচেট মনে করেন যে,
হিপনোসিসের সাহায্যে মানুষের
অতীন্দ্রিয় শক্তি বাড়িয়ে দেওয়া
যায়। হিপনোটিজম, সম্মোহন বা
হিপনোথেরাপি-কে বশিঃকরনের
সাথে মেলানোর প্রয়োজন নেই, এটা
সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক একটা পদ্ধতি যা
মানুষের উপকারেই আসছে।

সুত্রঃ ইন্টারনেট