Showing posts with label ইসলাম. Show all posts
Showing posts with label ইসলাম. Show all posts

Thursday, June 23, 2016

দোয়া এবং হাদিস পর্ব ১

১। কোরআনে বর্ণিত সর্বশ্রেষ্ঠ দোয়া
‘রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানা, ওয়াফিল আখিরাতি হাসানা, ওয়াকিনা আজাবান্নার।’ অর্থ : হে আমার প্রভু! আমাকে দুনিয়াতে কল্যাণ দান কর, আখেরাতেও কল্যাণ দান কর এবং আমাকে জাহান্নাম থেকে বাঁচাও।
সূরা বাকারা : ২০১

২। ফরজ সালাতের পর সর্বোত্তম সালাত হল রাতের সালাত অর্থাৎ তাহাজ্জুদের সালাত। ” —বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদ (সঃ)
---[সহীহ্ মুসলিমঃ→ ২৮১২]
★বিনয় মানুষকে সৌন্দর্য দান করে।" ---হযরত আলী (রাঃ)

৩। যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ও
সওয়াবের আশায় রমযান মাসে রোযা
রাখে, আল্লাহ তাআলা তার পুর্বের
সমস্ত পাপ ক্ষমা করে দেন । (বুখারি)

৪। রসূল (স) বলেছেন:
বৈধ ও হালাল জীবিকার ইবাদত
ছাড়া
কোনো প্রকার ইবাদত আল্লাহ্র
নিকট উঠানো হয় না ।
সহীহ আল-বুখারী, হদীস- 6993

সমাজে বহুল প্রচলিত কয়েকটি শিরক....
(যা তওবা না করে মারা গেলে
নিশ্চিত জাহান্নাম)

৫। শরিরে যেকোন প্রকার তাবিজ
ঝুলানো শিরক
[মুসনাদে আহমদ: ১৭৪৫৮, সহিহ হাদিস:৪৯২]

৬। আল্লাহ ব্যাতিত অন্য কারো নামে
কসম করা শিরক
[আবু দাউদ:৩২৩৬(ইফা)]

৭। কোন কিছুকে শুভ-অশুভ লক্ষন বা কুলক্ষণ
মনে করা শিরক
[বুখারি :৫৩৪৬, আবু দাউদ:৩৯১০]

৮। কেউ পেছন দিক থেকে ডাক দিলে
কিংবা নিজে যাত্রার সময় পিছন
ফিরে তাকালে যাত্রা অশুভ হয় এই
ধারনা বিশ্বাস করা শিরক (বুখারি, আবু
দাউদ:৩৯১০)

৯। আল্লাহর গুনবাচক নামে অন্য কাউকে
ডাকা শিরক (যেমন: কুদ্দুস, রাহমান,
রহীম, জাব্বার, সালাম, মুমিন ইত্যাদি)
এক্ষেত্রে নামের আগে "আব্দুল্লাহ"
বসাতে হবে।
[সুরা আরাফ:১৮০, ইসরা:১১০, হাশর]

১০। "খোদা" বলে আল্লাহকে ডাকা
শিরক। মোট কথা আল্লাহর দেয়া
গুনবাচক নাম ব্যাতিত অন্য কোন নামে
তাকে ডাকা শিরক।
[সুরা আরাফ:১৮০, ইসরা:১১০, হাশর]

১১। 'তর ভবিষ্যত অন্ধকার', 'তর কপালে বহুত
কষ্ট আছে', এইধরনের গায়েবি কথা
কাউকে বলা শিরক
[সুরা নমল:৬৫, আল জিন:২৫-২৬, আনাম:৫৯]

১২। হোচট খেলে কিংবা পেচা ডাকলে
সামনে বিপদ আছে এই ধারনা শিরক
(সুরা আনাম:১৭, ইউনুস:১০৭)

১৩।রোগ ব্যাধি বা বিপদ-আপদ থেকে
রক্ষা পেতে শরিরে পিতলের বালা,
শামুক, ঝিনুকের মালা, সুতা, কিংবা
যেকোন প্রকারের বস্তু লটকানো শিরক।
[তির্মিযি, আবু দাউদ ও হাকেম]

১৪। সফলতা কিংবা মংগল লাভের জন্য
এবং অমংগল থেকে রক্ষা পেতে
যেকোন প্রকার আংটি ব্যাবহার করা
শিরক।
[সুরা আনাম:১৭, ইউনুস :১০৭]

১৫। যে কোন জড় বস্তুকে সম্মান দেখানো
তথা তাযীম করা বা তার সামনে
নিরবতা পালন করা শিরক
যেমন: পতাকা, স্মৃতিসৌধ, শহিদ মিনার
কিংবা মাজার ইত্যাদি।
[সুরা বাকারাহ:২৩৮, আহকাফ:৫, ফাতহুল
বারি ৭/৪৪৮, আবু দাউদ:৪০৩৩]

১৬। আল্লাহর ছাড়া অন্য কারো সন্তুষ্টি
অর্জনের জন্য কিংবা লোক দেখানো
ইবাদাত করা শিরক
[সুরা আনাম:১৬২, বাইয়িনাহঃ ৫,
কাহফ:১১০,ইমরান:৬৪, ইবনে মাজাহ হা
নং৫২০৪]

১৭। আল্লাহ ব্যাতিত কোন গণক বা অন্য
কেউ গায়েব জানে এই কথা বিশ্বাস
করা শিরক
[সুরা নমল:৬৫, আল জিন:২৬, আনাম:৫৯]

১৮। আল্লাহর ছাড়া কোন পির-আওলিয়া
এবং কোন মাজারের নিকট দুয়া করা
বা কোন কিছু চাওয়া শিরক
[সুরা ফাতিহা:৪, আশ শোআরা:২১৩,
গাফির:৬০, তির্মিযি]

১৯। "আপনি চাইলে এবং আল্লাহ চাইলে
এই কাজটি হবে" এই কথা বলা শিরক
(নাসাঈ শরিফ)

২০। মাজারে ও কোন পির-ফকির কিংবা
কারো নিকট সিজদা দেয়া শিরক
[সুর জীন: ২০, মুসলিম:১০৭৭,
আবু দাউদ, মুত্তাফাকুন আলাই]

২১।  আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো বা
যেকোন পির-আওলিয়া কিংবা
মাজারের নামে নামে মানত করা
শিরক। তবে মানত না করাই উত্তম
[সহিহ বুখারি: অধ্যায় : তাকদির]
আল্লাহ বলেন,,
নিসন্দেহে আল্লাহ ইচ্ছা করলে
যেকোন গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন কিন্তু
শিরকের গুনাহ কখনো ক্ষমা করবেন না
(সুরা নিসা :৪৮,১১৬)

২২। নিশ্চয় যে ব্যাক্তি আল্লাহর সাথে
অংশীদার স্থির করে আল্লাহ তার জন্য
জান্নাতকে হারাম করে দেন এবং
জাহান্নামকে অবধারিত করে দেন
(সুরা মায়িদাহ:৭২)
শিরক হচ্ছে সবচেয়ে বড় ধ্বংসত্মাক
বিষয়। শত পাপ করলে ও কিয়ামতের দিন
তা ক্ষমার সম্ভবনা আছে কিন্তু
শিরকের পাপ ক্ষমার কোন সম্ভবনাই নেই
এবং তা নিসন্দেহে জাহান্নামে
নিয়ে যাবে।
.
ইয়া আল্লাহ আমাদের সকলকে শিরক
থেকে বাচার তৌফিক দান করুন

Wednesday, January 6, 2016

বোবা ধরা সম্পর্কে ইসলাম কী বলে....? এবং এর প্রতিকার।

‘বোবা ধরা’ সারা বিশ্বের সকল
সমাজে প্রচলিত অতি প্রাচীন এবং
অতি প্রাকৃতিক ঘটনা। একে ঘুম
বিশেষজ্ঞগণ চিকিৎসাবিজ্ঞানের
পরিভাষায় “স্লিপিং
প্যারালাইসিস” (Sleeping Paralysis) বলে
আখ্যায়িত করে থাকেন। আর এর কারণ
হচ্ছে বর্তমান চিকিৎসাবিজ্ঞান
সেক্যুলার নাস্তিক্যবাদে বিশ্বাসী
এবং ধর্মীয় বিশ্বাস ও অতিপ্রাকৃতিক
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ বিবর্জিত। তাই
তারা এই প্রাচীন এবং বর্তমানেও
সংঘটিত ও অভিজ্ঞতালব্ধ
বিষয়টিকে (বোবা ধরা) নিজেদের
মতো করেই ব্যাখ্যা করে থাকেন।
তারা যেমন বলেন “বোবায় ধরা”
একটা মানসিক ব্যাধি, তেমনি এর
কারণ দর্শিয়ে (তাদের মতে) বলেন,
এটা মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা,
অনিয়মিত ঘুম ইত্যাদি কারণে হয়।
যখন কাউকে বোবায় ধরে এবং
তাদের মধ্যে কেউ কেউ যখন মনোরোগ
বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হন, ঐ সকল
বিশেষজ্ঞগণ এর চিকিৎসায় ঘুমের
পিল এবং আরও কিছু মনোরোগ, শ্বাস-
প্রশ্বাস ও স্বাভাবিক রক্ত সঞ্চালনের
ওষুধ দিয়েই ক্ষান্ত হন। সম্ভব হলে
নিজের তত্বাবধানে রেখে নিয়মিত
চেক-আপও করেন। কিন্তু তারপরও যখন
কোনো সুচিকিৎসা দিতে পারেন
না, তখন বলেন, এটা
“প্যারানরমাল” (Paranormal), “সুপার-
ন্যাচার্যাল” (Supernatural) বা “অদ্ভূদ
রোগবিশেষ”!! যদিও বোবায় ধরা কোন
মানসিক রোগ নয়।
মুলতঃ এর ব্যাখ্যা ইসলাম অত্যন্ত
ভালভাবেই দিতে পারে। এর জন্য
আসুন জেনে নিই, ইসলামী দর্শন এ
বিষয়টিকে কিভাবে ব্যাখ্যা করে।
আপনারা জানেন, পৃথিবীতে
সৃষ্টিকুলের মধ্যে যেমন দৃশ্যমান
মানবজাতি এবং জীব-জন্তু রয়েছে,
তেমনি রয়েছে অদৃশ্যমান জ্বীনজাতি
ও ফেরেশতাকুল। জ্বীন সম্প্রদায়ের
মধ্যেও মানুষের মতো বোবার অস্তিত্ব
আছে। সেইসব বোবা জ্বীনদের মধ্য
থেকে কতিপয় জ্বীন যখন মানব
সমাজে চলে আসে বা বিচরণ করে,
তারা অন্যান্য স্বাভাবিক জ্বীনের
মতো মানুষের সাথে যোগাযোগ
করতে পারে না, আর পারে না
অন্যান্য জ্বীনদের সাথেও তাদের
মতামত আদান-প্রদান করতে। তাই
তারা কখনও কখনও তাদের ইচ্ছেমত
মানুষকে বিরক্ত করে। অন্য সময় পারে
না বলে ঘুমের সময়টাকেই তারা
বেছে নেয়।
কখনও কখনও এই সব বোবা জ্বীন তাদের
পছন্দমত মানুষের কাছে আসে এবং
ঘুমের মধ্যে তার উপর ভর করে। পছন্দমত
বলছি এ কারণে, যেহেতু তারা
দুনিয়ার সকল মানুষকেই ধরে না। ফলে
অনেক মানুষই বলে থাকে যে,
“আমাকে তো কখনই বোবায় ধরে না?”
যাই হোক, বোবা জ্বীনরা কখনও
দুষ্টামী করেই কারও উপর ভর করে,
আবার কখনও ইচ্ছাকৃতভাবে ভয়
দেখানোর জন্য কিংবা বিরক্ত হয়েই
তার উপর ভর করে। তবে ঠিক কি
কারণে তারা এমনটি করে, তা
জানা সম্ভব হয় না এ কারণে যে,
তারা বোবা (হাজারবার জিজ্ঞেস
করলেও এরা আপনাকে উত্তর দিতে
পারবে না)। তাই শুধু অনুমান করা যায়
মাত্র। এমনও ঘটেছে যে, সারা
জীবনে কোনো কোনো মানুষকে
মাত্র একবার বোবায় ধরে, আবার
কেউ কেউ বহুবার তাকে বোবায়
ধরেছে বলেও স্বীকার করে। এর সঠিক
কারণ জানা যায় না যে, কেন
কারো ক্ষেত্রে কম আর কারো
ক্ষেত্রে বেশি পরিমাণে ঘটে
থাকে? আল্লাহ পাক এবং তাঁর রসূলই
এর অধিক ভাল জানেন।
► বোবায় ধরলে কী কী
অভিজ্ঞতা হতে পারে?
এখানে একটি বিষয় ব্যাখ্যা করা
দরকার, তা হলো অনেকের এমন হয়,
বোবায় যে ধরেছে, এটা বুঝার পূর্বে
তারা অনেক দুঃস্বপ্ন দেখতে
থাকেন। তারপর দুঃস্বপ্নের এক
পর্যায়ে তারা বুঝতে পারেন,
তাদের পুরো শরীরের উপর বা কোনো
বিশেষ অঙ্গের (যেমনঃ মাথা, বুক,
হাত ইত্যাদি) উপর কেউ ভর করে আছে
এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে কারও
(জ্বীনের) লোমশ হাতের কথাও
অনেকে বলে থাকেন। এক এক জনের
অভিজ্ঞতা এক এক রকম। যাই হোক,
দুঃস্বপ্ন দেখতে থাকার কারণ হলো,
ঐসব বোবা জ্বীন স্বল্প সময়ের জন্য
মানুষের স্বপ্নকে নিয়ন্ত্রণ করতে
পারে এবং তারা সাধারণত
দুঃস্বপ্নের মধ্য দিয়ে মানুষকে
নিতেই পছন্দ করে যেন ঐ সকল মানুষ
স্বপ্নের এক পর্যায়ে আকস্মিক ঘুম
ভেঙ্গে উঠে অসহনীয় এবং প্রতিকূল
পরিস্থিতি অনুভব করে। তাই এটা
বোবা জ্বীনদের মানুষের শরীরের
নড়াচড়া করতে না দেয়ার
পাশাপাশি আরেকটি কূট-কৌশল।
এটা সচরাচর প্রায় সবার ক্ষেত্রেই
ঘটে থাকে যে, এই পরিস্থিতিতে
বোবায় ধরা ব্যক্তি নিজের হাত-পা
বা দেহের কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ
নাড়াতে পারে না (চোখের
কর্নিয়া ব্যতীত)। এর কারণ খুঁজে
দেখা গেছে, বোবা জ্বীনদের এক
বিশেষ ক্ষমতা থাকে, যাকে বলা হয়
“ব্লাড বেন্ডিং (Blood Bending)”। এ
ক্ষমতার দ্বারা তারা মানুষের
রক্তের চলাচল পথকে এবং
রক্তকণিকাকে স্বল্প সময়ের জন্য
নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারে।
আর রক্তের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে
পারে বলেই, দেহের বিভিন্ন
স্থানে তারা রক্ততঞ্চন ঘটাতে
পারে, ফলে সারা শরীর বা শরীরের
নির্দিষ্ট অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসমূহ নড়াচড়া
করা সম্ভব হয় না। এবং তারা যে
সময়টুকু মানুষের উপর ভর করে থাকে, এর
চলে যাওয়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত এ বিশেষ
ক্ষমতার প্রয়োগ তারা দেখাতে
পারে। এর আরেকটা কারণ হচ্ছে,
তারা চায় না, তাদের অদ্ভূদ আকৃতি-
প্রকৃতি বা চেহারা কোন মানব
দেখুক। আবার ইচ্ছা করলে তারা
অদৃশ্যভাবেও মানুষের উপর ভর করতে
পারে।
তবে হ্যাঁ, বোবা ধরলে একটা
নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত শ্বাস-প্রশ্বাস বা
অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসমূহ নড়াচড়ায় ব্যাঘাত
ঘটলেও মারা যাওয়ার আশংকা নেই।
এ পর্যন্ত কোন জ্বীন ঘুমের মধ্যে
কাউকে শারীরিকভাবে আঘাত
করেছে বা মেরে ফেলেছে বলে
শোনা যায় না। আল্লাহ পাক এ
বিষয়টি মানুষ এবং জ্বীন সম্প্রদায়ের
মধ্যে ভারসাম্য বিধান করে
দিয়েছেন। বোবা জ্বীনের কারণে
বা বোবায় ধরলে যদি অসংখ্য মানুষ
মারা যেত, তাহলে তা মানবজাতির
অস্তিত্বের জন্য হুমকিসরূপ হয়ে
দাঁড়াত। আবার জ্বীনজাতি দৃশ্যমান
হলে, মানুষ তাদেরকে হত্যা করা বা
সহজে বশ করার কোনো না কোনো
উপায় বের করে ফেলত। এ জন্যই তারা
অদৃশ্যমান। এ বিষয়টির ব্যাখ্যা করতে
অনেক লেখা-লেখির প্রয়োজন
বিধায় এখানে আর আলোচনা অন্য
দিকে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন বোধ
করছি না।
► বোবায় ধরা যে জ্বীন
দ্বারা সংঘটিত ঘটনা, তার
যৌক্তিক প্রমাণ
বোবায় ধরা যে জ্বীন দ্বারা ঘটিত
একটি ঘটনা (বিজ্ঞান তার ব্যাখ্যা
করতে পারুক না না-ই পারুক) তা বুঝা
যায়, কোন দরূদ শরীফ বা সূরা ইত্যাদি
পড়লে বোবায় ধরার প্রভাবটা আর
থাকে না এবং মুহূর্তের মধ্যেই চলে
যায়। অনেকের ক্ষেত্রে সাথে
সাথে চলে যায়, আবার অনেকের
ক্ষেত্রে দোয়া-কালাম পাঠ শুরু
করার কিছুক্ষণ পর চলে যায়। এরপর
অনেক ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতাপ্রাপ্ত
ব্যাক্তি উঠে বসে, আবার অনেকেই
ঘামতে থাকে, অনেকে আবার ভয়ে
হাঁপাতে থাকে। তবে ভয় পাওয়ার
কিছু নেই। আমরা যদি বিশ্বাস করি
যে, আমরা আশরাফুল মাখলুকাত, ওরা
আমাদের কিছুই করতে পারবে না
এবং এক আল্লাহর উপর নির্ভর করি,
তাহলে এরকম ঘটনা আমাদের জন্য কোন
ব্যাপারই না।
এমনও দেখা গেছে যে,
অভিজ্ঞতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি বিছানায়
শয়ন করার দু’-এক মিনিটের মধ্যেই
(অর্থাৎ, তখনও সে সম্পূর্ণ সচেতন) তার
উপর কোনো কিছু এসে ভর করেছে।
অর্থাৎ, বৈজ্ঞানিক পরিভাষা
স্লিপিং প্যারালাইসিস, যা গভীর
ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে গেলে ঘটতে পারে,
এমন যুক্তি এ ক্ষেত্রে অচল হয়ে যায়।
আর হ্যাঁ, এ ক্ষেত্রে
অভিজ্ঞতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি কর্তৃক বোবা
জ্বীনকে দেখে ফেলার সম্ভাবনাই
তুলনামূলক বেশি, কেননা পুরোপুরি
ঘুমিয়ে যায় নি এমন ব্যক্তির উপরে
blood bending করা জ্বীনের জন্য দুষ্করই
বটে।
আবার এমনও দেখা গেছে যে,
অভিজ্ঞতাপ্রাপ্তব্যক্তি পুরোপুরি
উপুড় হয়ে শয়ন করে নি, বরং এককাত
হয়ে ডান বা বাম দিকে হয়ে শুয়ে
আছে, এই অবস্থায়ও বোবা এসে ভর
করে। অর্থাৎ, এ ক্ষেত্রেও
বিজ্ঞানের অথর্ব পরিভাষা
স্লিপিং প্যারালাইসিস, যার মূল
যুক্তিই হচ্ছে, ঘুমন্ত ব্যক্তি
লম্বালম্বিভাবে উপুড় হয়ে শুয়ে
থাকে বলে তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে রক্ত
জমাট বেঁধে যায়, তাই ঐ অনুভূতি হয়,
এমন যুক্তি নিতান্তই খোঁড়া ও অচল।
এছাড়াও কোনো কোনো
অভিজ্ঞতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির
স্বীকারোক্তিতে জানা গেছে,
বোবায় ধরার (জ্বীন আসার) আগে বা
(জ্বীন চলে যাওয়ার) পরে তারা যদি
আধো-ঘুমন্ত অবস্থায় থাকেন, তবে
ঘরে শব্দ শুনতে পান। অর্থাৎ বোবা
ধরার আগে, জানালা দিয়ে কোনো
কিছু আসার শব্দ আর চলে যাওয়ার পর
একইভাবে জানালা দিয়ে কোনো
কিছু চলে যাওয়ার শব্দ শুনে থাকেন।
তবে এই অভিজ্ঞতা সবাই লাভ করেন
না। আর এই শব্দও বৈজ্ঞানিক যুক্তি
স্লিপিং প্যারালাইসিসকে সমর্থন
করে না, বরং কোনো অতিপ্রাকৃতিক
কিছুর অস্তিত্বই স্বীকার করে।
বোবা ধরার সময়, বা চলে যাওয়ার
মুহূর্তে কেউ কেউ উক্ত বোবা
জ্বীনকে দেখে ফেলতে পারেন। এমন
হয়েছে যে, জ্বীনের আকৃতি-প্রকৃতি
পরিষ্কার বুঝা যায় নি, শুধু কালো
বিকট এক আকৃতির অস্তিত্ব উপলব্ধি
করা গিয়েছে। আবার এমনও হয়েছে
যে, জ্বীনটি তার আসল রূপ বা কোনো
কুৎসিত চেহারা নিয়ে
অভিজ্ঞতাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে দেখা
দিয়েই উধাও হয়ে গিয়েছে। তবে
জ্বীন দেখা দিয়েছে, এমন ঘটনা
দুর্লভ।
► বোবায় ধরলে যা যা করা
উচিত, তার মধ্যে কয়েকটি
হচ্ছে
১) দরূদ শরীফ পড়তে থাকা।
২) আল্লাহর কালাম অর্থাৎ কুরআনুল
কারীমের যে কোন সূরা থেকে
আয়াতে পাক পাঠ করতে থাকা। সূরা
বাকারা, ইখলাস অথবা ইয়াসীনের
আয়াতসমূহ পাঠ করা যেতে পারে।
৩) আয়াতুল কুরসী পাঠ করতে থাকা।
এটি অত্যন্ত কার্যকরী।
৪) হুযুরে পাক (সঃ) অথবা কোন নবী
বা ওলীর উছিলায় ঐ পরিস্থিতি
থেকে মুক্তি পাবার জন্য আল্লাহর
কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা।
এছাড়াও যাদের পক্ষে সম্ভব হয়,
নিজে কোন বিজ্ঞ আলেম ব্যক্তির
শরণাপন্ন হয়ে তাঁর থেকে এতদভিন্ন
কোন নির্দিষ্ট আয়াতে পাক বা
দোয়া জেনে নিতে পারেন।
► বোবায় ধরা থেকে
সম্পূর্ণরূপে মুক্তি চাইলে
করণীয়
১) ঘুমানোর আগে অযু করে শোয়া।
২) পুরোপুরি উপুড় হয়ে না শোয়া।
৩) ডান কাত হয়ে শোয়া।
৪) কারও উপুড় হয়ে শোয়ার অভ্যাস
সহজে না গেলে, কাঁথা, চাদর বা
কম্বল দ্বারা মাথা থেকে পা পর্যন্ত
ঢেকে তারপর উপুড় হয়ে শোয়া। তবে
৩ নং আমলটিই অধিকতর শ্রেয় এবং
সুন্নত সম্মত।
৫) ঘুমের দোয়াসমূহ পড়ে তারপর
ঘুমানো। কি দোয়া পড়ছেন, তার অর্থ
জানা থাকলে ভাল। ঘুমের একটি সহজ
এবং অধিক পঠিতব্য দোয়া হচ্ছে,
“আল্লাহুম্মা বি-ইস্মিকা আমূওতু ওয়া
আহ্ইয়া।”
অর্থঃ হে আল্লাহ ! তোমারই নামে
মৃত্যুবরণ করি, আবার তোমারই নামে
জীবন ধারন করি।
৬) দুঃস্বপ্ন দেখে আকস্মাৎ জেগে
উঠলে বাম দিকে ফিরে তিনবার
“আউযুবিল্লাহি মিনাশ্ শাইত্বনির্
রাজীম” বলে তিন বার থুথু দেয়া। থুথু
দিলে পাশের জায়গা ভিজে
যাবার আশংকা থাকলে থুথুর মত করে
ফুঁ দেয়া।
৭) শোবার সময় দশ বার করে “লা-
হাওলা ওয়ালা- কুয়াতা ইল্লা
বিল্লাহ্” পাঠ করা।
৮) দুঃস্বপ্ন বা বোবায় ধরার কাহিনী
কোনটাই কাউকে না বলা। আর প্রকাশ
করলে এমন কারও কাছেই তা করা
উচিত যিনি এর সঠিক ব্যাখ্যা দিতে
পারেন এবং প্রতিকার বাতলে
দিতে পারেন।
৯) ঘরে লেবু রাখা, কেননা যে ঘরে
লেবু থাকে জ্বীন সেখানে প্রবেশ
করে না।
সুত্রঃ কোরআন ও বিজ্ঞান

Sunday, November 22, 2015

কোরআর শরীফের প্রয়োজনীয় সংক্ষিপ্ত ১০ টি সূরা যা আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

হুজুর পাক (সাঃ) ইরশাদ করেন “তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি সেই যিনি কোরআন শরীফ এর তা ’লীম গ্রহন করেন এবং কুরআন শরীফ এর তা’লীম”দেন। (বুখারী শরীফ,মিশকাত শরীফ)

কুরআন শরীফ মহান আল্লাহ পাক এর কালাম। মহান আল্লাহ পাক এর যেরূপ মর্যাদা-মর্তবা, তার কালাম কুরআন শরীফ এরও রয়েছে মর্যাদা, মাহাত্ম ও ফযীলত। ছহীহ্ শুদ্ধভাবে তাজভীদ অনুযায়ী কুরআন শরীফ তিলাওয়াত বা পাঠ করার মধ্যে অশেষ ফজীলত ও বরকত রয়েছে,অপরদিকে কুরআন শরীফ এর একটি হরফও যদি অশুদ্ধ বা তাজভীদের খিলাফ বা বিপরীত পাঠ করা হয় তবে ছওয়াবের পরিবর্তে গুনাহ্ এমনকি ক্ষেত্র বিশেষে কুফরী পর্যন্ত পৌছার সম্ভাবনাও রয়েছে।

আমারা আমাদের এই পোষ্টে কোরআর শরীফের প্রয়োজনীয় সংক্ষিপ্ত ১০ টি সূরা নিয়ে তৈরী করা হয়েছে। আর প্রতি সূরার আরবি, বাংলা উচ্চারন ও বাংলা অর্থ সহ দেওয়া হয়েছে। যেহেতু সূরা গুলো অনেক সংক্ষিপ্ত (ছোট) তাই এই সূরা গুলো খুব সহজেই মুখস্ত করা যাবে। যা কিনা আমাদের প্রতিদিনকার নামাজ পড়তে সাহায্য করবে।

সূরা ফাতিহাঃ

سورة الفاتحة
الـرَّحْمنِ الرَّحِيْمِ

الْحَمْدُ للّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
الرَّحْمـنِ الرَّحِيمِ
مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ
إِيَّاكَ نَعْبُدُ وإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ
اهدِنَــــا الصِّرَاطَ المُستَقِيمَ
صِرَاطَ الَّذِينَ أَنعَمتَ عَلَيهِمْ غَيرِ المَغضُوبِ عَلَيهِمْ وَلاَ الضَّالِّينَ

বাংলায় উচ্চারন:
আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আ’লামীন
আর রাহমানির রাহীমি
মালিকি ইয়াওমিদ্দীন
ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাস্তাঈন
ইহ্দিনাস্ সিরাতাল মোস্তাকীম
সিরাতাল্লাজীনা আন আমতা আলাইহিম গাইরিল মাগদূবি আলাইহিম ওয়ালাদ্দোয়াল্লিন আমীন

বাংলায় অনুবাদ:
সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহ্‌রই,
যিনি পরম করুণাময়, পরম দয়াময়,
যিনি বিচার দিনের মালিক
আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি
আমাদেরকে সরল পথ দেখাও,
সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ
তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে

সূরা ফীলঃ

سورة الفيل
الـرَّحْمنِ الرَّحِيْمِ

أَلَمْ تَرَ كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِأَصْحَابِ الْفِيلِ
أَلَمْ يَجْعَلْ كَيْدَهُمْ فِي تَضْلِيلٍ
وَأَرْسَلَ عَلَيْهِمْ طَيْرًا أَبَابِيلَ
تَرْمِيهِم بِحِجَارَةٍ مِّن سِجِّيلٍ
فَجَعَلَهُمْ كَعَصْفٍ مَّأْكُولٍ

বাংলায় উচ্চারন:
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
আলাম তারা কাইফা ফা’আলা রাব্বুকা বিআছহা বিল ফীল
আলাম ইয়াজ আল
কাইদাহুম ফী তাদলীলিওঁ ওয়া আরসালা আলাইহিম ত্বাইরান আবাবীল ,
তারমীহিম বিহিজারাতিম মিন সিজ্জীলিন।
ফাজা আলাহুম কাআছ ফিম মা’কূল।

বাংলায় অনুবাদ:
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।
আপনি কি দেখেননি আপনার পালনকর্তা হস্তীবাহিনীর সাথে কিরূপ ব্যবহার করেছেন?
তিনি কি তাদের চক্রান্ত নস্যাত্‍ করে দেননি?
তিনি তাদের উপর প্রেরণ করেছেন ঝাঁকে ঝাঁকে পাখী,
যারা তাদের উপর পাথরের কংকর নিক্ষেপ করছিল।
অতঃপর তিনি তাদেরকে ভক্ষিত তৃণসদৃশ করে দেন।

সূরা কুরাইশঃ
سورة الماعون
الـرَّحْمنِ الرَّحِيْمِ

لِإِيلَافِ قُرَيْشٍ
إِيلَافِهِمْ رِحْلَةَ الشِّتَاءِ وَالصَّيْفِ
فَلْيَعْبُدُوا رَبَّ هَـٰذَا الْبَيْتِ
الَّذِي أَطْعَمَهُم مِّن جُوعٍ وَآمَنَهُم مِّنْ خَوْفٍ

বাংলায় উচ্চারন:
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

লি-ঈলাফি কুরাইশিন,
ঈলাফিহিম রিহ্ লাতাশ শীতায়ি ওয়াছ ছাইফ।
ফালইয়া’বুদূ রাব্বা হাযাল বাইত
আল্লাযী আত্য়ামাহুম মিন্ জু-ইওঁ ওয়া অমানাহুম মিন খাউফ।

বাংলায় অনুবাদ:
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।

কোরাইশের আসক্তির কারণে,
আসক্তির কারণে তাদের শীত ও গ্রীষ্মকালীন সফরের।
অতএব তারা যেন এবাদত করে এই ঘরের পালনকর্তার
যিনি তাদেরকে ক্ষুধায় আহার দিয়েছেন এবং যুদ্ধভীতি থেকে তাদেরকে নিরাপদ করেছেন

সূরা মাউনঃ
سورة الماعون
الـرَّحْمنِ الرَّحِيْمِ

أَرَأَيْتَ الَّذِي يُكَذِّبُ بِالدِّينِ
فَذَٰلِكَ الَّذِي يَدُعُّ الْيَتِيمَ
وَلَا يَحُضُّ عَلَىٰ طَعَامِ الْمِسْكِينِ
فَوَيْلٌ لِّلْمُصَلِّينَ

الَّذِينَ هُمْ عَن صَلَاتِهِمْ سَاهُونَ
الَّذِينَ هُمْ يُرَاءُونَ
وَيَمْنَعُونَ الْمَاعُونَ

বাংলায় উচ্চারন:
আরাআইতাল্ লাযী ইউকায্যিবু বিদ্দীন্।
ফাযা-লিকাল্ লাযী ইয়াদু‘য়্যুল ইয়াতীম্।
ওয়ালা- ইয়াহুদ্দু আ’লা- ত্বা‘আ-মিল্ মিস্কীন।
ফাওয়াইলুল্ লিল মুছাল্লীন।
আল্লাযীনা হুম ‘আন্ সালা-তিহিম সা-হূন।
আল্লাযীনা হুম ইউরা-ঊনা।
ওয়া ইয়াম্না‘ঊনাল্ মা-‘ঊন্।

বাংলায় অনুবাদ:
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।

আপনি কি দেখেছেন তাকে, যে বিচারদিবসকে মিথ্যা বলে?
সে সেই ব্যক্তি, যে এতীমকে গলা ধাক্কা দেয়
এবং মিসকীনকে অন্ন দিতে উৎসাহিত করে না।
অতএব দুর্ভোগ সেসব নামাযীর,
যারা তাদের নামায সম্বন্ধে বে-খবর;
যারা তা লোক-দেখানোর জন্য করে
এবং নিত্য ব্যবহার্য্য বস্তু অন্যকে দেয় না

সূরা আল কাওসারঃ
سورة الكوثر
الـرَّحْمنِ الرَّحِيْمِ

إِنَّآ أَعْطَيْنَٰكَ ٱلْكَوْثَرَ
فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَٱنْحَرْ
إِنَّ شَانِئَكَ هُوَ ٱلْأَبْتَرُ

বাংলায় উচ্চারন:
ইন্না--- ‘আত্বাইনা- কাল্ কাওছার।
ফাছাল্লি লিরাব্বিকা ওয়ান্হার।
ইন্না শা-নিআকা হুয়াল আব্তার।

বাংলায় অনুবাদ:
নিশ্চয় আমি আপনাকে কাওসার দান করেছি।
অতএব আপনার পালনকর্তার উদ্দেশ্যে নামায পড়ুন এবং কোরবানী করুন।
যে আপনার শত্রু, সেই তো লেজকাটা, নির্বংশ

সূরা কাফিরুনঃ
سورة الكافرون
الـرَّحْمنِ الرَّحِيْمِ

قُلْ يَٰٓأَيُّهَا ٱلْكَٰفِرُونَ
لَآ أَعْبُدُ مَا تَعْبُدُونَ
وَلَآ أَنتُمْ عَٰبِدُونَ مَآ أَعْبُدُ
وَلَآ أَنَا۠ عَابِدٌ مَّا عَبَدتُّمْ
وَلَآ أَنتُمْ عَٰبِدُونَ مَآ أَعْبُدُ
لَكُمْ دِينُكُمْ وَلِىَ دِينِ

বাংলায় উচ্চারন:
ক্কুল ইয়া--- আইয়্যূহাল কা-ফিরূন।
লা--- ‘আবুদু মা- ‘তাবুদূন।
ওয়ালা--- আন্তুম ‘আ-বিদূনা মা--- ‘আবুদ।
ওয়ালা--- আনা ‘আবিদূম্ মা- ‘আবাত্তুম।
ওয়ালা--- আন্তুম ‘আ-বিদূনা মা--- ‘আবুদ।
লাকুম দ্বীনুকুম ওয়া লিয়া দ্বীন।

বাংলায় অনুবাদ:
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।

বলুন, হে কাফেরকূল,
আমি এবাদত করিনা, তোমরা যার এবাদত কর।
এবং তোমরাও এবাদতকারী নও, যার এবাদত আমি করি
এবং আমি এবাদতকারী নই, যার এবাদত তোমরা কর।
তোমরা এবাদতকারী নও, যার এবাদত আমি করি।
তোমাদের কর্ম ও কর্মফল তোমাদের জন্যে এবং আমার কর্ম ও কর্মফল আমার জন্যে

সূরা নাসরঃ
سورة النصر
الـرَّحْمنِ الرَّحِيْمِ

قُلْ يَٰٓأَيُّهَا ٱلْكَٰفِرُونَ
لَآ أَعْبُدُ مَا تَعْبُدُونَ
وَلَآ أَنتُمْ عَٰبِدُونَ مَآ أَعْبُدُ
وَلَآ أَنَا۠ عَابِدٌ مَّا عَبَدتُّمْ
وَلَآ أَنتُمْ عَٰبِدُونَ مَآ أَعْبُدُ
لَكُمْ دِينُكُمْ وَلِىَ دِينِ

বাংলায় উচ্চারন:
১। ইযা- জ্বা----আ নাছ্রুল্লা-হি ওয়াল্ ফাত্হু।
২। ওয়া রাআইতান্ না-ছা ইয়াদ্খুলূনা ফী দ্বীনিল্লা-হি আফ্ওয়া-জ্বা-।
৩। ফাস্ব্বিহ্ বিহাম্দি রাব্বিকা ওয়াস্তাগ্ফিরহু; ইন্নাহূ কা-না তাওয়্যা-বা।

বাংলায় অনুবাদ:
যখন আসবে আল্লাহর সাহায্য ও বিজয়
এবং আপনি মানুষকে দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করতে দেখবেন,
তখন আপনি আপনার পালনকর্তার পবিত্রতা বর্ণনা করুন এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাকারী

সূরা আল ইখলাসঃ
سورة الإخلاص
الـرَّحْمنِ الرَّحِيْمِ

قُلْ هُوَ ٱللَّهُ أَحَدٌ
ٱللَّهُ ٱلصَّمَدُ
لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ
وَلَمْ يَكُن لَّهُۥ كُفُوًا أَحَدٌۢ

বাংলায় উচ্চারন:
ক্বুল্ হুওয়াল্লা-হু আহাদ্।
আল্লা-হুস্ সামাদ।
লাম ইয়ালিদ্ ওয়া লাম ইঊলাদ্।
ওয়া লাম ইয়াকুল লাহু কুফুওয়ান্ আহাদ।

বাংলায় অনুবাদ:
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।

১) বলুন, তিনি আল্লাহ, এক,
২) আল্লাহ অমুখাপেক্ষী,
৩) তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি
৪) এবং তার সমতুল্য কেউ নেই

সূরা আল ফালাকঃ
سورة الفلق
الـرَّحْمنِ الرَّحِيْمِ

بِلْ أَعُوذُ بِرَبِّ ٱلْفَلَقِ
مِن شَرِّ مَا خَلَقَ
وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ
وَمِن شَرِّ ٱلنَّفَّٰثَٰتِ فِى ٱلْعُقَدِ
وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ

বাংলায় উচ্চারন:
ক্বুল আ‘ঊযু বিরাব্বিল ফালাক্ব।
মিন্ র্শারি মা- খালাক্ব।
ওয়া মিন্ র্শারি গা-ছিক্কিন ইযা- ওয়াক্বাব।
ওয়া মিন্ র্শারিন নাফ্ফা-ছা-তি ফিল্ ‘উক্বাদ্।
ওয়া মিন্ র্শারি হা-ছিদিন্ ইযা- হাসাদ্।

বাংলায় অনুবাদ:
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।

বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি প্রভাতের পালনকর্তার,
তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তার অনিষ্ট থেকে,
অন্ধকার রাত্রির অনিষ্ট থেকে, যখন তা সমাগত হয়,
গ্রন্থিতে ফুঁত্‍কার দিয়ে জাদুকারিণীদের অনিষ্ট থেকে
এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে।

সূরা ক্বদরঃ
سورة القدر
الـرَّحْمنِ الرَّحِيْمِ

إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ
وَمَا أَدْرَاكَ مَا لَيْلَةُ الْقَدْرِ
لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ
تَنَزَّلُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِمْ مِنْ كُلِّ أَمْرٍ
سَلَامٌ هِيَ حَتَّى مَطْلَعِ الْفَجْرِ

বাংলায় উচ্চারন:
ইন্না--- আন্যাল্না-হু ফী লাইলাতিল ক্বাদ্রি।
ওয়ামা--- আদ্রা-কা মা- লাইলাতুল্ ক্বাদ্রি।
লাইলাতুল ক্বাদরি খাইরুম্ মিন্ আল্ফি শাহ্রিন।
তানাজ্জালুল মালা----ইকাতু ওর্য়ারূহু ফীহা- বিইযনি রাব্বিহিম, মিন্ কুল্লি আমরিন।
সালা-মুন, হিয়া হাত্তা- মাত্বলাইল্ ফাজরি।

বাংলায় অনুবাদ:
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।

আমি একে নাযিল করেছি শবে-কদরে।
শবে-কদর সম্বন্ধে আপনি কি জানেন?
শবে-কদর হল এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।
এতে প্রত্যেক কাজের জন্যে ফেরেশতাগণ ও রূহ অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে।
এটা নিরাপত্তা যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে

Saturday, November 21, 2015

যাকাত: ইসলামের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিধান কে, কাকে; কখন, কীভাবে -আদায় করবে?


যাকাত- ইসলামের দ্বিতীয় বৃহত্তম
বিধান। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ
তাআলা নামায আদায়ের সাথে
সাথে অধিকাংশ আয়াতে যাকাত
আদায়েরও নির্দেশ দিয়েছেন।
বলেছেন, “নামায কায়েম করো এবং
যাকাত আদায় করো”। [দেখুন ২:৪৩, ২:৮৩,
২:১১০, ২৪:৫৬, ৫৮:১৩ ইত্যাদি
আয়াতগুলো।]

এসব আয়াতের আলোকে যাকাত
ইসলামের অন্যতম অপরিহার্য ফরয
দায়িত্ব বলে প্রমাণিত হয়; যার
অস্বীকারকারী বা তুচ্ছ
তাচ্ছিল্যকারী কাফির বলে গণ্য; আর
অনাদায়কারী ফাসিক এবং কঠিন
শাস্তির যোগ্য। অথচ এ বিধানটাকে
আমরা কতই না অবহেলা করি!
পবিত্র কুরআনের একেবারে শুরুর দিকে,
সূরা বাক্বারায়, হেদায়াতপ্রাপ্ত
মুত্তাকীদের পরিচয় দিতে গিয়ে
আল্লাহ তাআলা বলেছেন, “…আমার
দেয়া রিযক হতে যাকাত প্রদান করে”।
এ আয়াত থেকে প্রমাণিত হয় যে,
আল্লাহর ভয় অন্তরে লালন করা ও
হেদায়াতের পূর্ণতায় পৌঁছুতে যাকাত
প্রদানের কোনো বিকল্প নেই। যে
ব্যক্তি যাকাত ফরয হওয়ার পরও তা আদায়
করে না, তার পক্ষে পূর্ণ হেদায়াত
লাভ করা কখনো সম্ভব নয়।
ভাবতে পারেন, হেদায়াত না-ই
পেলাম, হেদায়াত আমার কি-ই-বা
দরকার। আতর লাগিয়ে শুক্রবার
নামাযে যাচ্ছি; সেজেগুজে ঈদের
নামাযে হাজিরা দিচ্ছি; ব্যাস..
মুসলমানের দায়িত্ব তো পালন হলোই;
বেহেশত তো পাচ্ছিই; হুর-গেলমান তো
থাকবেই; ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু না…
যাকাত প্রদান করলে যেমন পাচ্ছেন
হেদায়াত ও আল্লাহ তাআলার নৈকট্য,
ঠিক তেমনি, না আদায় করলেও প্রস্তুত
থাকছে ভয়ানক শাস্তি।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
ﻭَﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻳَﻜْﻨِﺰُﻭﻥَ ﺍﻟﺬَّﻫَﺐَ ﻭَﺍﻟْﻔِﻀَّﺔَ ﻭَﻟَﺎ ﻳُﻨْﻔِﻘُﻮﻧَﻬَﺎ ﻓِﻲ ﺳَﺒِﻴﻞِ
ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻓَﺒَﺸِّﺮْﻫُﻢْ ﺑِﻌَﺬَﺍﺏٍ ﺃَﻟِﻴﻢٍ – ﻳَﻮْﻡَ ﻳُﺤْﻤَﻰٰ ﻋَﻠَﻴْﻬَﺎ ﻓِﻲ ﻧَﺎﺭِ
ﺟَﻬَﻨَّﻢَ ﻓَﺘُﻜْﻮَﻯٰ ﺑِﻬَﺎ ﺟِﺒَﺎﻫُﻬُﻢْ ﻭَﺟُﻨُﻮﺑُﻬُﻢْ ﻭَﻇُﻬُﻮﺭُﻫُﻢْ ۖ ﻫَٰﺬَﺍ ﻣَﺎ
ﻛَﻨَﺰْﺗُﻢْ ﻟِﺄَﻧْﻔُﺴِﻜُﻢْ ﻓَﺬُﻭﻗُﻮﺍ ﻣَﺎ ﻛُﻨْﺘُﻢْ ﺗَﻜْﻨِﺰُﻭﻥَ
আর যারা স্বর্ণ ও রূপা জমা করে রাখে
এবং তা ব্যয় করে না আল্লাহর পথে,
তাদের কঠোর আযাবের সুসংবাদ
শুনিয়ে দিন। সে দিন জাহান্নামের
আগুনে তা উত্তপ্ত করা হবে এবং তার
দ্বারা তাদের ললাট, পার্শ্ব ও
পৃষ্ঠদেশকে দগ্ধ করা হবে। (সেদিন বলা
হবে), এগুলো যা তোমরা নিজেদের
জন্যে জমা রেখেছিলে, সুতরাং
এক্ষণে আস্বাদ গ্রহণ কর জমা করে
রাখার। [৯:৩৪-৩৫]
ত্রিশতম পারার সূরা হুমাযা পুরোটাই
যাকাত প্রদান না করার শাস্তির
আলোচনায় উৎসর্গিত। দেখুন,
ﻭَﻳْﻞٌ ﻟِﻜُﻞِّ ﻫُﻤَﺰَﺓٍ ﻟُﻤَﺰَﺓٍ – ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺟَﻤَﻊَ ﻣَﺎﻟًﺎ ﻭَﻋَﺪَّﺩَﻩُ – ﻳَﺤْﺴَﺐُ
ﺃَﻥَّ ﻣَﺎﻟَﻪُ ﺃَﺧْﻠَﺪَﻩُ – ﻛَﻠَّﺎ ۖ ﻟَﻴُﻨْﺒَﺬَﻥَّ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺤُﻄَﻤَﺔِ – ﻭَﻣَﺎ ﺃَﺩْﺭَﺍﻙَ
ﻣَﺎ ﺍﻟْﺤُﻄَﻤَﺔُ – ﻧَﺎﺭُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺍﻟْﻤُﻮﻗَﺪَﺓُ – ﺍﻟَّﺘِﻲ ﺗَﻄَّﻠِﻊُ ﻋَﻠَﻰ
ﺍﻟْﺄَﻓْﺌِﺪَﺓِ – ﺇِﻧَّﻬَﺎ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﻣُﺆْﺻَﺪَﺓٌ – ﻓِﻲ ﻋَﻤَﺪٍ ﻣُﻤَﺪَّﺩَﺓٍ
প্রত্যেক পশ্চাতে ও সম্মুখে
পরনিন্দাকারীর দুর্ভোগ,যে অর্থ
সঞ্চিত করে ও গণনা করে। সে মনে
করে যে,তার অর্থ চিরকাল তার সাথে
থাকবে। কখনও না,সে অবশ্যই নিক্ষিপ্ত
হবে পিষ্টকারীর মধ্যে। আপনি কি
জানেন,পিষ্টকারী কি ? এটা আল্লাহর
প্রজ্বলিত অগ্নি,যা হৃদয় পর্যন্ত পৌঁছবে।
এতে তাদেরকে বেঁধে দেয়া
হবে,লম্বালম্বি খুঁটিতে। [১০৪:১-৯]
বস্তুত, সীমিত পর্যায়ে ব্যক্তি
মালিকানাকে ইসলাম স্বীকার করে
নিলেও, এ সুযোগে যেন অশুভ পুঁজিতন্ত্র
জন্ম লাভ না করতে পারে, সে বিষয়েও
সতর্ক দৃষ্টি রেখেছে। পুঁজিতন্ত্রের
বিকাশ রোধে তাই যাকাতকে ইসলাম
গুরুত্ব দিয়েছে অনেক বেশি।
ইসলাম মনে করে, নিত্যপ্রয়োজনীয়
সামগ্রী বাদ দেয়ার পর কারো যদি
৫২.৫ তোলা রূপা বা ৭.৫ তোলা স্বর্ণ
বা সমমূল্যের সম্পদ এক বৎসর কাল পর্যন্ত
সঞ্চিত থাকে, তাহলে সে সম্পদশালী।
এ ধরনের সম্পদশালী ব্যক্তিদের থেকে
রাষ্ট্রের অন্যান্য অভাবী মানুষদের
প্রয়োজন পূর্ণ করার জন্য ঐ সঞ্চিত
সম্পদের শতকরা ২.৫ টাকা যাকাত
প্রদানের দাবি জানায় ইসলাম।
যাকাত আদায়ের বিবিধ উপকারিতা
নিম্নরূপ:
১. গরীবের প্রয়োজন পূর্ণ করা; অভিশপ্ত
পুঁজিতন্ত্রের মূলোৎপাটন করা; সম্পদ
কুক্ষিগত করার মানসিকতাকে শেষ করে
সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য সৃষ্টি
করা।
২. মুসলমানদের সামগ্রিক শক্তি বৃদ্ধি
করা; দারিদ্র বিমোচনে কার্যকর
পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
৩. চুরি-ডাকাতি-ছিনতাই সহ সবরকম
অভাবজনিত অপরাধের মূলোৎপাটন করা।
গরীব-ধনীর মাঝে সেতুবন্ধন সৃষ্টি করা।
৪. সম্পদের বরকত ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি।
নবীজী স. বলেন, ﻣﺎ ﻧﻘﺼﺖ ﺻﺪﻗﺔ ﻣﻦ ﻣﺎﻝ
যাকাতের সম্পদ কমে না। [মুসলিম:৬৭৫৭,
তিরমিযী:২০২৯] অর্থাৎ, হয়ত দৃশ্যতঃ
সম্পদের পরিমাণ কমবে, কিন্তু আল্লাহ
তাআলা এই স্বল্প সম্পদের মাঝেই
বেশি সম্পদের কার্যকারী ক্ষমতা
দিয়ে দিবেন।
৫. সম্পদের পরিধি বৃদ্ধি করা। কেননা
সম্পদ যখন যাকাতের মাধ্যমে
অভাবীদের মাঝে বণ্টিত হয়, তখন এর
উপকারিতার পরিধি বিস্তৃত হয়। আর যখন
তা ধনীর পকেটে কুক্ষিগত থাকে, তখন
এর উপকারিতার পরিধিও সঙ্কীর্ণ হয়।
৬. যাকাত প্রদানকারীর দান ও দয়ার
গুণে গুণান্বিত হওয়া; অন্তরে অভাবীর
প্রতি মায়া-মমতা সৃষ্টি হওয়া।
৭. কৃপণতার ন্যায় অসৎ গুণ থেকে
নিজেকে পবিত্র করা। আল্লাহ
তাআলা বলেন, ﺧﺬ ﻣﻦ ﺃﻣﻮﺍﻟﻬﻢ ﺻﺪﻗﺔ ﺗﻄﻬﺮﻫﻢ
ﻭﺗﺰﻛﻴﻬﻢ ﺑﻬﺎ তাদের সম্পদ থেকে যাকাত
গ্রহণ করো; যেন তুমি সেগুলোকে এর
মাধ্যমে পবিত্র ও বরকতময় করতে পার।
[৯:১০৩]
৮. সর্বোপরি আল্লাহর বিধান পালন
করার মাধ্যমে ইহকাল ও পরকালে তাঁর
নৈকট্য লাভ করা।
যাকাত কখন ফরয হয়:
৭.৫ ভরি স্বর্ণ, ৫২.৫ ভরি রূপা বা
সমমূল্যের নিত্য প্রয়োজনোতিরিক্ত
সম্পদের মালিক হলে, এবং এ অবস্থায় এক
বছর অতিক্রান্ত হলে। এ হিসাবটাকে
ইসলামী পরিভাষায় ‘নেসাব বলে।
অতএব, কারো যদি নেসাব পরিমাণ সম্পদ
এক বছর পর্যন্ত থাকে, তাহলে তার উপর
যাকাত ফরয হবে।
আজ (১১ই জুন, ২০০৯) -এর হিসাব অনুযায়ী:
১ ভরি রূপা= ৫০০ টাকা
.:. ৫২.৫ ভরি রূপা= ২৬,২৫০ টাকা
অতএব কেউ ২৬,২৫০ টাকার মালিক হলে
এবং এ অবস্থায় এক বছর অতিক্রান্ত হলে,
তার উপর যাকাত ফরয হবে। (২৬,২৫০
টাকায় শতকরা ২.৫ টাকা হিসেবে
মাত্র ৬৫৬.২৫ টাকা যাকাত আসে।
অতএব ভয় পাওয়ার কোনো কারণ
নেই। :) )
কোন কোন সম্পদে যাকাত আসে:
১. নগদ টাকা-পয়সা, ব্যাংক ব্যালেন্স,
বন্ড ও অন্যান্য ফাইন্যানশিয়াল
ইন্সট্রুমেন্টস
২. সোনা-রূপা; অর্নামেন্ট, বার যা-ই
হোক; তা নিত্যব্যবহার্য হলেও।
৩. ব্যবসার সম্পদ; যা ব্যবসার উদ্দেশে
ক্রয়কৃত; কিংবা ব্যবহারের উদ্দেশে
ক্রয়ের পর বিক্রয়কৃত। ব্যবসার কাঁচামাল,
উৎপাদিত বস্তু, বা, উৎপাদনের বিভিন্ন
পর্যায়ে থাকা বস্তু। শেয়ারও এ
পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত।
৪. অন্যান্য প্রয়োজনোতিরিক্ত সম্পদ।
টিভিও এ কাতারে অন্তর্ভুক্ত।
কাকে যাকাত দেয়া যাবে:
১. মিসকীন: যার কোনো সম্পদ নেই,
মানুষের কাছে হাত পেতে চলে।
২. অভাবী: যার সম্পদ আছে, তবে
নেসাব পরিমাণ নেই, কারো কাছে
হাতও পাতে না সে, অথচ সে তার
প্রয়োজন পূরণে অক্ষম।
এ কাতারে ঋণ আদায়ে অক্ষম ও
ভিনদেশী অভাবী মুসাফিরও পড়বে।
চিকিৎসা গ্রহণে অক্ষম ব্যক্তিও এ
কাতারে শামিল। অর্থাৎ, কেউ যদি
এমনিতে সচ্ছল হয়, কিন্তু প্রয়োজনীয়
চিকিৎসা করাতে অক্ষম হয়, তাহলে
তাকেও যাকাতের অর্থ দিয়ে সাহায্য
করা যেতে পারে। তবে শর্ত হলো,
চিকিৎসার পর্যায়টা এমন হতে হবে যে,
যা না করালেই নয়, এবং যে চিকিৎসা
করালে তার সুস্থতাও অনেকটা
নিশ্চিত। উদাহরণস্বরূপ, যে চিকিৎসা
বাংলাদেশে সম্ভব, তা যদি সিরফ
বিলাসিতা বশত বিদেশে গিয়ে
করাতে চায়, তাহলে সে ক্ষেত্রে
তাকে যাকাত দেয়া যাবে না। কিন্তু
চিকিৎসকরা যদি বলেন যে, তাকে অমুক
দেশে নিতেই হবে, এ ছাড়া কোনো
গতি নেই, তখন তাকে সাহায্য করা
যেতে পারে। মোটকথা, চিকিৎসা
যদি কারো সত্যিই প্রয়োজন হয়, এবং এ
প্রয়োজন মেটাতে যদি সে সত্যিই অক্ষম
হয়, তাহলে সেও এই অভাবীর পর্যায়ভুক্ত
হয়ে যাকাত গ্রহণ করতে পারবে।
[ ইসলাম ওয়েব ডট নেট, ইনসান অনলাইন ডট
নেট, ইসলাম অনলাইন ডট নেট ]
তবে দুই সম্পর্কের মানুষকে যাকাত
দেয়া যাবে না।
১. ঔরসজাত সম্পর্ক। যেমন- পিতা
ছেলেকে, বা ছেলে পিতাকে।
২. বৈবাহিক সম্পর্ক। যেমন- স্বামী
স্ত্রীকে, বা স্ত্রী স্বামী।
এ দুই গ্রুপ ছাড়া অন্য সকল অভাবীকে
(উপরোক্ত সংজ্ঞানুসারে) দেয়া
যাবে।
যাকাত বিষয়ক কিছু জরুরী জ্ঞাতব্য:
১. যাকাতের ক্ষেত্রে নিয়ত করা
(যাকাত দিচ্ছি এই জ্ঞান করা) আবশ্যক।
সেটা প্রদান করার সময়ও হতে পারে বা
যাকাতের সম্পদ হিসাব করে পৃথক করার
সময়ও হতে পারে।
২. প্রতিটা সম্পদের উপর এক বছর
অতিক্রান্ত হওয়া জরুরী নয়। বরং, বছরের
মাঝে যে সম্পদ অর্জিত হবে, তাতেও
যাকাত আসবে।
৩. যাকাত আদায়ের তারিখে যে যে
সম্পদ থাকবে, সে সে সম্পদের যাকাত
আদায় করবে।
৪. যাকাতের পরিমাণ নির্ধারণে
মনগড়া/অনুমাননির্ভর হিসাব করবে না।
বরং পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব করে যাকাত
আদায় করবে। যেন কোনো ক্রমেই
পরিমাণের চেয়ে কম আদায় না হয়।
৫. যাকাত যেদিন হিসাব করে পৃথক
করবে, সেদিনের মূল্য ধর্তব্য হবে।
৬. চন্দ্র মাস হিসাব করে যাকাত দিবে।
উদাহরণস্বরূপ, প্রতি বছর রমজানের বা
মুহাররমের এক তারিখ যাকাত আদায়
করবে।
যাকাত সম্পর্কিত একেবারে মৌলিক
কথাগুলো পোষ্টে আলোচনা করলাম।
সংক্ষিপ্ত করার লক্ষে অনেক বিষয়
এড়িয়ে যেতে হলো। যাকাত নিয়ে
কারো কোনো প্রশ্ন থাকলে তা
মন্তব্যের ঘরে করতে পারেন।
ইনশাআল্লাহ ভিন্ন পোষ্টে বা
সংশ্লিষ্ট মন্তব্যেই তার উত্তর দেয়ার
চেষ্টা করব।
আল্লাহ আমাদের সকলকে তাঁর বিধান
মেনে চলার তাওফীক দিন। আমীন।

সংগৃহীত