Showing posts with label স্বাস্থ্য. Show all posts
Showing posts with label স্বাস্থ্য. Show all posts

Monday, February 29, 2016

জেনে নিন মধু খেয়ে ওজন কমানোর ৬টি কৌশল

ওজন কমানো খুবই কঠিন কাজ, কিন্তু সঠিক প্রাকৃতিক উপাদানের সাহায্যে এই প্রক্রিয়াটিকে ত্বরান্বিত করা যায়। মধুর উপকারিতার কথা আমরা সবাই জানি। কিন্তু আপনি কি জানেন মধু ওজন কমানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রভাবশালী একটি উপাদান? গবেষণায় জানা যায় যে, প্রতিদিন এক চামচ মধু সেবন আপনার ওজন কমাতে সাহায্য করে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। আসুন ওজন কমাতে মধু খাওয়ার কয়েকটি পদ্ধতি সম্পর্কে জেনে নিই।

১। দারুচিনি ও মধু
দারুচিনি যখন মধুর সাথে ব্যবহার করা হয় তখন তা পরিপাকের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে এবং বিপাককে উদ্দীপিত করতে সাহায্য করে। এক চামচ দারুচিনি গুঁড়ার সাথে এক চামচ মধু মিশিয়ে নিয়মিত সেবন করলে আপনার ওজোন কমানোর লক্ষপূরণ হবে।

২। ত্রিফলা ও মধু
ওজন কমাতে অত্যন্ত কার্যকরী ত্রিফলা ও মধু। ত্রিফলা পরিপাকের উন্নতি ঘটায় এবং শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ বের করে দেয়। যখন মধুর সাথে ত্রিফলা মিশানো হয় তখন মিশ্রণটি বিপাকের হার বৃদ্ধি করে ওজন কমতে সাহায্য করে। সারারাত একচামচ ত্রিফলা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। সকালে এই পানি ফুটিয়ে নিন এবং একচামচ মধু মিশিয়ে পান করুন।

৩। গোলাপের পাপড়ি ও মধু
শুনে অবাক হচ্ছেন? বিশ্বাস করুন বা নাই করুন, গোলাপের পাপড়ি ও মধুর মিশ্রণ ওজন কমতে সাহায্য করে। এজন্য আপনাকে যা করতে হবে, কিছু গোলাপের পাপড়ি পানিতে ফুটিয়ে নিন চা তৈরি করার জন্য। তারপর গোলাপ চা উষ্ণ থাকেই এতে একচামচ মধু মিশিয়ে পান করুন প্রতিদিন।

৪। নিম ফুল ও মধু
ওজন কমানোর আরেকটি মোক্ষম উপাদান হচ্ছে নিম ফুল ও মধুর মিশ্রণ। কিছু নিম ফুল থেঁতলে নিন এবং এর সাথে সামান্য মধু মিশিয়ে নিন যাতে মিশ্রণটি একচামচ পরিমাণ হয়। ভালো ফল পেতে খালি পেটে এই মিশ্রণটি পান করুন।

৫। লেবু ও মধু
ওজন কমানোর সবচেয়ে ভালো উপাদান হচ্ছে লেবু ও মধুর মিশ্রণ। এই মিশ্রণটি পরিপাকের উন্নতি ঘটায় ও শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বাহির করে দেয়। একচামচ তাজা লেবুর রসের সাথে সামান্য মধু মিশিয়ে প্রতিদিন পান করুন।

৬। হাইবারনেশন ডায়েট
গবেষণায় দেখা গেছে যে, ঘুমাতে যাওয়ার আগে এক চামচ মধু খেলে আপনার ওজন ৩ সপ্তাহের মধ্যে কমে যাবে। হানি ডায়েটের প্রতিষ্ঠাতা ব্রিটিশ ফার্মাসিস্ট মাইক মেকেলনেস এবং তার ছেলে পুষ্টিবিজ্ঞানী স্টুয়ারট আবিষ্কার করেন, যে ক্রীড়াবিদেরা ফ্রুকটোজ সমৃদ্ধ খাবার যেমন- মধু খান তাদের স্টেমিনা বৃদ্ধি পায় এবং অনেক বেশি চর্বি পোড়ে। মধু যকৃতে গ্লুকোজ উৎপাদনের জ্বালানী হিসেবে কাজ করে। এই গ্লুকোজ মস্তিষ্কের সুগার লেভেল বাড়িয়ে দেয় এবং চর্বি পোড়ানোর হরমোন নিঃসরণে বাধ্য করে। হানি ডায়েটের মাধ্যমে উপকৃত হতে চাইলে চিনির স্থানে মধুকে প্রতিস্থাপন করে নিন।
মধু খাওয়ার সাথে সাথে সপ্তাহে অন্তত ৩ দিন ব্যয়াম করুন তাহলে আপনি উল্লেখযোগ্য হারে ওজন কমতে দেখবেন। অনেক বেশি চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার জন্যই বেশির ভাগ মানুষকে ওজন কমাতে যুদ্ধ করতে হয়। তবে একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে যে, আপনাকে মধুর বদলে সব ধরণের চিনি বাদ দিতে হবে।

লিখেছেন-
সাবেরা খাতুন

Friday, January 8, 2016

সকালে খালি পেটে পানি পানেরযত উপকার

পানির অপর নাম জীবন। পানি ছাড়া
আমরা বাঁচতে পারি না। প্রতিদিন
পরিমিত পরিমাণে পানি পান করা
খুবই জরুরি। তবে সকালে ঘুম থেকে ওঠার
পর খালি পেটে এক গ্লাস পানি পান
করা শরীরের জন্য খুবই ভালো। এ
অভ্যাসটি যদি আপনি রপ্ত করতে
পারেন, তবে অনেক ধরনের অসুখ-বিসুখ
থেকে আপনার শরীর মুক্ত থাকবে;
আপনিও থাকবেন সুস্থ ও সবল।
দিনের শুরুর এই এক গ্লাস পানিকে
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা 'স্বাস্থ্যকর'
'বিশুদ্ধ' 'সুন্দর' ইত্যাদি বিশেষণে
বিশেষায়িত করে থাকেন। প্রশ্ন হচ্ছে:
কী পানি খাবেন? ঠাণ্ডা পানি,
নাকি গরম পানি? মধুমিশ্রিত পানি,
নাকি হালকা নোনতা পানি?
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন,
সকালে ঘুম থেকে উঠে ফুটানো পানি
পান করা উচিত। হালকা নোনতা
পানি ভাল, কিন্তু সাধারণত প্রতিদিনই
আমরা খাবার থেকে সোডিয়াম
পেয়ে থাকি। তাই শরীরে এর অভাব
না-হলে অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ করার
দরকার নেই। মধুমিশ্রিত পানি অনেকের
পছন্দ। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে
সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তবে
মধুমিশ্রিত পানি মানে আবার
অতিরিক্ত ক্যালরি। তাই সবচে ভালো
সাধারণ পানি ফুটিয়ে পান করা। আর
সে পানি ঠাণ্ডাও না, গরমও না- এমন
হলে ভালো। সাধারণত রাতে ঘুমের
মধ্যে পানি পান করা হয় না। তখন
শরীরে পানির অভাব দেখা দেয়।
সকালের এক গ্লাস পানি সে অভাব পূরণ
করবে। তা ছাড়া, সকালে খালি
পেটে পানি খেলে আপনার প্রস্রাবও
ক্লিয়ার হবে।
এখানে একটা প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
প্রশ্নটা হচ্ছে : কেন সকালে ঘুম থেকে
জেগেই খালি পেটে পানি পান
করতে হবে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন,
সকালে খালি পেটে এক গ্লাস পানি
অন্তত চারটি উপকার করে। তাই
আমাদের সকালে পানি খাওয়া উচিত
এবং এটাকে অভ্যাসে পরিণত করা
উচিত।
উপকারিতা ১ : সকালে খালি পেটে
পানি পান করলে শরীরের পানির
অভাব পূরণ হবে। রাতে ঘুমানোর সময়
মানবদেহের অভ্যন্তরে বিভিন্ন
ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় পানির অভাব
দেখা দেয়। আমরা সকালে ঘুম থেকে
জেগে উঠি এই অভাব নিয়েই। তাই, ঘুম
থেকে উঠেই এক গ্লাস পানি পান
করার এই পরামর্শ। এতে দ্রুতই সেই অভাব
পূরণ হয়ে যায়।
উপকারিতা ২ : কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে
অনেকে কোষ্ঠকাঠিন্যতায় ভোগেন।
তাদের জন্য সকালে উঠে খালি
পেটে পানি খাওয়ার যাদুর মতো কাজ
করতে পারে। আর যাদের এ সমস্যা নেই,
সকালে পানি খাওয়ার অভ্যাস
তাদেরকে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে দূরে
রাখবে বলে আশা করা যায়।
সকালে খালি পেটে পানি পানের
তিন নম্বর উপকারিতা হচ্ছে, এতে
পাকস্থলির কার্যক্ষমতা বাড়ে। রাতের
বেলা বিপাকপ্রক্রিয়া চলতে থাকে
এবং সকাল নাগাদ এ কাজ শেষ হয়ে
যায়। তখন খালি পেটে এক গ্লাস
পানি পাকস্থলিকে সক্রিয় করে তুলতে
ভূমিকা রাখে। আবার এতে পাকস্থলির
ওপর না-হক চাপও পড়ে না।
সকালে খালি পেটে পানি খাওয়ার
চার নম্বর উপকারিতা হচ্ছে, এতে
মস্তিষ্ক তুলনামূলকভাবে অধিক সচল হয়।
কীভাবে? আমরা জানি রক্তের একটা
বড় অংশই পানি। আর পানি পান করলে
তা আমাদের রক্ত প্রবাহ স্বাভাবিক
রাখতে ভূমিকা রাখে। আর রক্ত প্রবাহ
ঠিক থাকলে, মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন
স্বাভাবিক থাকে এবং এর ফলে
মস্তিষ্ক অধিক সচল হয়।
সকালে ঘুম থেকে উঠে পানি পানের
উপকারিতা নিয়ে এতক্ষণ আলোচনা
করলাম। আগের অনুষ্ঠানে প্রতিদিন
কতটুকু পানি পান করবেন, কখন করবেন,
কীভাবে করবেন--এসব বিষয় নিয়ে
আলোচনা করেছি। এখন এ সম্পর্কে
আরেকটু বিস্তারিত আলোচনা করতে
চাই। আশা করি, এর মাধ্যমে আপনারা
উপকৃত হবেন।
প্রতিদিন ঘুমোতে যাওয়ার আগে
পানি পানের অভ্যাস আছে কি?
অনেকে মনে করেন, রাতে শোয়ার
আগে পানি পান না-করাই ভালো।
আসলে, বিষয়টা ঠিক উল্টো। রাতে
ঘুমাতে যাওয়ার আগেও পরিমিত
পানি পান করা উচিত।
সকালে ঘুম থেকে উঠে পানি পান
করার বিশেষ উপকারিতা সম্পর্কে
একটি ধারণা প্রচলিত আছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু সকালে নয়,
সারাদিনই প্রয়োজন অনুসারে পানি
পান করতে হবে, একটু একটু করে। রাতে
শোয়ার আগে ৫০ থেকে ২০০
মিলিলিটার পর্যন্ত পানি পান করতে
বলেন তাঁরা। শোয়ার আগে এর চেয়ে
বেশি পানি না-পান করাই ভালো।
কারণ, তাতে ঘুমের গুণগত মান কমে যায়।
এখন প্রশ্ন হতে পারে, সুস্থতার জন্য
প্রতিদিন কতটুকু পানি পান করা উচিত?
হ্যাঁ, এই প্রশ্নের উত্তর একেক জন একেক
রকমভাবে দিয়ে থাকেন। তবে,
সবচেয়ে প্রচলিত উত্তরটি হচ্ছে : অন্তত
২০০০ মিলিলিটার। আধুনিক
চিকিৎসকরা অবশ্য ১২০০
মিলিলিটারেই সন্তুষ্ট। তারা
বলেছেন, এ পানি পান করতে হবে
সারাদিন ধরে, একটু একটু করে। 'একটু একটু
করে' বলতে তারা বুঝিয়েছেন ১০০
থেকে ২০০ মিলিলিটার করে।
অবশ্য, ঋতু ও পরিবেশভেদে
পানিগ্রহণের পরিমাণ বাড়াতে হতে
পারে। যেমন, গরমকালে যদি বেশি
ঘাম হয়, তবে আপনার শরীরের পানির
চাহিদা ২০০০ থেকে ৩০০০
মিলিমিটার হতে পারে। শরীরচর্চার
ফলে শরীর থেকে প্রচুর ঘাম ঝরলেও
পানি বেশি খেতে হতে পারে।
আবার শীতকালে ১২০০ থেকে ১৫০০
মিলিলিটার পানিই অধিকাংশ
ক্ষেত্রে যথেষ্ট।
আরেকটি কথা, যাদের কিডনিতে
পাথর হয়েছে, বা যারা উচ্চ
কলেস্টেরলের রোগী, তাদের সব
ঋতুতেই প্রতিদিন অন্তত ২০০০
মিলিলিটার করে পানি পান করা
উচিত। এক্ষেত্রে পানিটুকু খেতে হবে
সারা দিন ধরে, একটু একটু করে।

গরম পানি দিয়ে গোসল,ভালো না খারাপ?


শীতে ত্বকের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা
হয়। আবার কিছু ত্বকের সমস্যা রয়েছে,
যেগুলো শীতকালে বেড়ে যায়। আজ ২
ডিসেম্বর এনটিভির স্বাস্থ্য প্রতিদিন
অনুষ্ঠানের ২২৫৪তম পর্বে এ বিষয়ে কথা
বলেছেন ডা. মো. রোকন উদ্দিন। তিনি
এনাম মেডিকেল কলেজের চর্ম ও
যৌনরোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান
ও সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত
আছেন।
ডা. মো. রোকন উদ্দিন।
প্রশ্ন : শীত বাড়লে ত্বকের কিছু সমস্যা
হয় আমরা জানি। আবার কিছু সমস্যা নতুন
করেই হয়। শীতে সাধারণত ত্বকে কী
কী সমস্যা হয়?
উত্তর : আমরা জানি শুষ্কতা শুধু প্রকৃতির
ওপর প্রভাব ফেলে না। সেটি আমাদের
শরীরের ওপরও প্রভাব ফেলে। এই সময়ে
ত্বকের শুষ্কতা হলো এক নম্বর সমস্যা। আর
দ্বিতীয় হলো, অনেক অসুখ রয়েছে
যেখানে শুষ্কতা আগে থেকে থাকতে
পারে। আবার অনেক অসুখে রোগীরা
ভুগে থাকে। যেমন ডায়াবেটিস,
কিডনি রোগ। এগুলোতেও ত্বকে সমস্যা
হতে পারে। ৫০ বছরের পর তেল তৈরি
করার গ্রন্থিগুলোর কার্যক্রম কমে যায়।
তখন সাধারণত বছরজুড়ে শুষ্কতার বিষয়টি
থাকে। আবার ১২ বছরের নিচের
বাচ্চাদের, যাদের তেল তৈরি করার
গ্রন্থির কার্যক্রম নেই, তাদের শুষ্কতা
পুরো বছরেই থাকে। তবে শীতে এটি
বেড়ে যায়।
প্রশ্ন : শীতে ত্বকের শুষ্কতা বেড়ে
গেলে সমস্যা কী?
উত্তর : শুষ্কতা হলে রোগী প্রথম ইচিং
বা চুলকানির সমস্যা অনুভব করে। এর
পেছনে পেছনে অনেকগুলো সমস্যা
চলে আসতে পারে। যখনই আমরা চুলকাই
ওই জায়গাগুলো উন্মুক্ত হয়ে যাচ্ছে।
আমরা জানি যে আমাদের চারপাশে
ব্যাকটেরিয়া রয়েছে, ভাইরাস
রয়েছে, অনেক জীবাণু আছে। এবং
এগুলো খুব সহজে আমাদের শরীরের
ভেতরে ঢুকে পড়ে। তখন শরীরে সংক্রমণ
তৈরি করে। পরবর্তীকালে এ থেকে
জটিলতা হতে পারে। এটা যে শুধু
শারীরিক সমস্যা করে বিষয়টি সেটি
নয়। যেমন বাচ্চাদের ক্ষেত্রে চুলকানি
হলে তারা সাধারণত ঘুমাতে পারে
না। ঘুমের অসুবিধার জন্য তার স্কুলে
সমস্যা হয়, খাবার কম খায়। শিশুগুলো
বিরক্ত থাকে। এই না ঘুমাতে পারার
জন্য শিশুর মানসিক বৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আসলে চুলকানি জিনিসটিকে হয়তো
খুব সাধারণ সমস্যা মনে হয়। এটি হয়তো
ঠিক হয়ে যায়। তবে এর
ধারাবাহিকতায় দেখা যায়
বচ্চাগুলো নিস্তেজ হয়ে যায়। তার
ঘুমের সমস্যা, আচরণগত পরিবর্তন, ওজন কম,
বিরক্তি, স্কুলের ফলাফল খারাপ করা
ইত্যাদি সমস্যা হয়।
প্রশ্ন : ত্বকের কি কিছু রোগ রয়েছে
যেটি সাধারণত সারা বছর হতে পারে।
তবে শীত এলে কি রোগের প্রকোপ
বেড়ে যায়?
উত্তর : এ রকম অসুখ অনেকগুলোই রয়েছে।
যেমন : শীতকালে সোরিয়াসিস
বেড়ে যায়। সেবোরিক
ডার্মাটাইটিস বেড়ে যায়। জন্মগত
ত্রুটি যেমন ইকথায়োসিস রয়েছে,
সেগুলো শীতকালে অনেক প্রকট আকার
ধারণ করে। আবার কিডনি অসুখের
ক্ষেত্রে অনেকগুলো সমস্যা হয় ত্বকে।
সেগুলো শীতের সময় বেশি আসে।
শরীরের খোলা ত্বকগুলোতে এই শুষ্কতা
বেশি হয়। বাচ্চার বিভিন্ন জায়গায়
চুলকানোর জন্য চামড়া উঠে যায়,
কালো হয়ে যায়। একে আমরা
এক্সিমাটাইজেশন বলি। সে
সমস্যাগুলো নিয়েও আমাদের কাছে
রোগীরা আসে। এ ছাড়া বাচ্চাদেরও
সোরিয়াসিস হতে পারে। বড়দেরও
সোরিয়াসিস হতে পারে।
সোরিয়াসিসে চামড়াগুলো মোটা
হয়ে যাবে, খোসার মতো উঠবে। আর
নিম্নবিত্তদের ক্ষেত্রে অনেক লোক
একসঙ্গে থাকার জন্য সংক্রমণ ছড়িয়ে
পড়ার প্রাদুর্ভাব বেড়ে যায়।
শীতকালে আমরা রোদে বেশি
যাচ্ছি। তাপের কারণে গরমের সময়
আমরা সূর্যের আলো থেকে দূরে থাকি।
তবে শীতের সময় আমরা এই সুরক্ষা নিই
না। এতে ফ্রিক্যালস, মেছতা,
ম্যালাসমা- অনেকগুলো চামড়ার
কালো হওয়াজনিত সমস্যা বেড়ে যায়।
আপনি খেয়াল করে দেখবেন ছেলে
হোক বা মেয়ে, যারা ঢাকনাওয়ালা
জুতা পরে, তাদের পা তুলনামূলকভাবে
ভালো থাকে। তবে যারা স্যান্ডেল
পরছে, তাদের পা এমনিই শুষ্ক থাকে।
শীতের সময় এটা বেড়ে যায়। পা
ফাটা নিয়ে রোগীদের অভিযোগ
থাকে। শীতের সময় এই রোগগুলো
বেড়ে যায়।
প্রশ্ন : শীতে কি চুলে খুশকি বাড়ে?
উত্তর : হ্যাঁ, শীতে চুলের খুশকি বাড়ে।
গরমের সময় এটি সূর্যের আলো এবং
ধুলাবালির কারণে বাড়বে। গরমের
সময়েও এই সমস্যা বাড়ে। শীতের সময়ও
এই সমস্যা বাড়ে।
প্রশ্ন : একজন মানুষ যদি এসব সমস্যায়
আক্রান্ত হোন, তার করণীয় কী? বিশেষ
করে, শুষ্ক ত্বক যাদের, তারা কি
ময়েশ্চারাইজার বা বিভিন্ন ক্রিম
ব্যবহার করবেন? এ বিষয়ে আপনার
পরামর্শ কী?
উত্তর : আসলে সমস্যাগুলো সাধারণত
হচ্ছে যে অংশগুলো খোলা থাকছে
সেখানে। ঢাকা অংশগুলোতে
সাধারণত সমস্যাগুলো বেশি হচ্ছে না।
তাহলে ফুলহাতা জামা বা প্যান্ট
পরে আমরা যদি ওই অংশগুলো ঢেকে
রাখি এই সমস্যাগুলো থেকে অনেকটাই
নিরাপদ থাকতে পারি।
রোদে বের হলে ছাতা ব্যবহার করতে
হবে এবং সানস্ক্রিন জাতীয় ক্রিম
ব্যবহার করতে হবে। শীতের সময় আমরা
রোদে বেশি যাই, মিষ্টি রোদ, আরাম
লাগে। রোদের খরতাপ আমাদের
কোনো ক্ষতি করে না। তবে সূর্যের
অতিবেগুনি রশ্মি শরীরের জন্য
খারাপ।
শীতের সময় চামড়া খারাপ হওয়ার বড়
কারণ হচ্ছে গরম পানি। গরম পানি
দিলে শরীরের প্রাকৃতিক যে তেল
আছে সেটি ধুয়ে যায়। প্রোটিনগুলোও
চলে যায়।
প্রশ্ন : গরম পানি দিয়ে গোসল করা কি
খারাপ?
উত্তর : অবশ্যই খারাপ। তবে কথা হচ্ছে,
যার অ্যাজমা আছে, যে বয়স্ক রোগী,
তাকে তো এই পরামর্শ দিলে হবে না।
সে কী করবে? সে গোসলের আগে,
পরে তেল ময়েশ্চারাইজার দেবে।

Wednesday, January 6, 2016

মস্তিস্ক ভাল রাখার উপায়।

মস্তিষ্ক শরীরের একটি বড় অঙ্গ। এর
মাধ্যমেই সব কাজ নিয়ন্ত্রিত হয়। তবে
কিছু অভ্যাস রয়েছে যেগুলো
মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতাকে নষ্ট করে
দিয়ে এর ক্ষতির কারণ হয়।
স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথ
ডাইজেস্ট জানিয়েছে মস্তিষ্কের
ক্ষতি করে এমন কিছু অভ্যাসের কথা।
১. সকালের নাশতা না খাওয়া
যাঁরা সকালবেলার নাশতা খান না,
তাঁদের রক্তের শর্করা কমে যায়। এতে
মস্তিষ্কে পুষ্টি কম পৌঁছায় এবং
মস্তিষ্ক শক্তি পায় না।
২. বেশি খাওয়া
বেশি খাওয়া মস্তিষ্কের আর্টারিকে
শক্ত করে দেয়। এতে মস্তিষ্কের শক্তি
কমে যায়।
৩. ধূমপান
ধূমপান মস্তিষ্কের রক্তনালিগুলোকে
সংকুচিত করে ফেলে। দীর্ঘদিন ধূমপান
করলে তাই স্মৃতিভ্রম রোগ হয়।
৪. বেশি চিনি খাওয়া
বেশি চিনি খাওয়া প্রোটিন এবং
পুষ্টির শোষণকে প্রভাবিত করে। এর
কারণে অপুষ্টির সমস্যা হয়। এটি
মস্তিষ্কের শক্তি বৃদ্ধিতে বাধা দেয়।
৫. বায়ুদূষণ
শরীরের মধ্যে মস্তিষ্কই হলো
অক্সিজেন গ্রহণ করার সবচেয়ে বড়
ভোক্তা। দূষণযুক্ত বায়ু মস্তিষ্কে
অক্সিজেনের সরবরাহ ব্যাহত করে। এটি
মস্তিষ্কের কার্যকারিতা কমিয়ে
দেয়।
৬. ঘুমের সমস্যা
ঘুমালে মস্তিষ্ক বিশ্রাম পায়। বহুদিন
ধরে ঘুমের সমস্যায় ভুগলে মস্তিষ্কের
কোষকে নষ্ট করে দেয়।
৭. ঘুমের সময় মাথা ঢাকলে
অনেকেরই অভ্যাস রয়েছে মাথা
ঢেকে ঘুমানোর। তবে এতে কার্বন
ডাই-অক্সাইড বৃদ্ধি পায় এবং
অক্সিজেনের ঘাটতি হয়। এটি
মস্তিষ্কের ক্ষতি করে।
৮. অসুস্থতার সময় বেশি কাজ করা
অসুস্থতার মধ্যে খুব চাপ দিয়ে
লেখাপড়া করলে মস্তিষ্কের
কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই অসুস্থ
অবস্থায় মাথায় চাপ নিয়ে কোনো
কাজ করবেন না।

লেবুর শরবতে তলপেটেরমেদ কমে?

ডা. সজল আশফাক 
লেবুর শরবত কি তলপেটের মেদ কমায়?
লেবুর শরবত খেলে তলপেটের মেদ বা
চর্বি কমে- এটি প্রচলিত একটি ভ্রান্ত
ধারণা। আবার কেউ কেউ আরো একধাপ
বাড়িয়ে বলেন, কুসুম গরমপানির লেবুর
শরবত খেলে তলপেটের চর্বি গলে যায়।
এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব
বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন
বিশেষজ্ঞ ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহর কথা
হচ্ছে, ‘এসব ধারণার বৈজ্ঞানিক
কোনো ভিত্তি নেই। লেবুতে থাকে
সাইট্রিক এসিড, যার সঙ্গে পেটের
চর্বি গলে যাওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই।
ব্যায়াম ছাড়া এই চর্বি কমানো সম্ভব
নয়। এ ছাড়া চর্বিযুক্ত খাবার কম গ্রহণ
করার মধ্যদিয়ে তলপেটে অতিরিক্ত
চর্বি জমা প্রতিরোধ করা যেতে
পারে। তাই লেবুর শরবতের সাথে
তলপেটের চর্বি ঝড়িয়ে ফেলার
কোনো সম্পর্ক নেই।’
‘তবে এ ধরনের শরবত চিনি ছাড়া
খেলে পাকস্থলী ভরে থাকে এবং
ক্ষুধা থাকে না। এতে অন্য খাবার
গ্রহণের পরিমাণ কমে যায়। তবে লেবুর
শরবত চর্বি না কমালেও শরীরের
ভিটামিন সির চাহিদা মেটায়।’
লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, নাক কান
গলা বিভাগ, হলি ফ্যামিলি রেড
ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড
হাসপাতাল।

Sunday, December 27, 2015

শিশুর সুষ্ঠু বিকাশেকরণীয়।

আজকের শিশু আগামী দিনের
জাতির কর্ণধার। একটি জাতির
সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হচ্ছে
শিশুরা। আজকে যারা শিশু তাদের
যদি আমরা যত্ন সহকারে, সুস্থ-সুন্দর
পরিবেশ বিকাশ লাভের সুযোগ
করে দিই, তা হলে ভবিষ্যতে তারা
হবে এদেশের এক একজন আদর্শ, কর্মক্ষম
ও সুযোগ্য নাগরিক। এক সময় তারা
দেশের প্রতিটি সেক্টরে
অসাধারণ দক্ষতার পরিচায় দিয়ে এ
দেশকে অগ্রগতির দিকে নিয়ে
যাবে। আমাদের দেশের বেশির
ভাগ শিশু সুষ্ঠু বিকাশের উপযুক্ত
পরিবেশ থেকে বঞ্চিত। তবে
আশার কথা, ইদানীং আমাদের
মধ্যে শিশুদের চাহিদা এবং
তাদের প্রতি আমাদের কর্তব্য
সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আমাদের সংবিধানের ও শিশু
অধিকার সংক্রান্ত আইন রয়েছে।
এসব আইনের প্রয়োগের বিষয়ে
আমাদের ভাবতে হবে।শরীর ও মন
উভয়ই শিশুর সামগ্রিক গঠনের
অন্তর্ভুক্ত। প্রথম জীবন থেকেই শিশুর
শরীরের হয় বৃদ্ধি আর মনের হয়
বিকাশ। শরীরের বৃদ্ধি মানে
বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের পরিবর্তন ও
আকৃতি বৃদ্ধি পাওয়া। অন্য দিকে
মনের বিকাশ মানে শিশুর জ্ঞান,
বুদ্ধি, মেধা, আবেগ ও অন্যের সাথে
মেলামেশা করার দক্ষতা অর্জন
করা। একটি শিশুকে পরিপূর্ণ মানুষ
হিসেবে গড়ে তুলতে হলে তার
শারীরিক বৃদ্ধির পাশাপাশি
মানসিক বৃদ্ধি বা মনের বিকাশেরও
সমান ভাবে সুযোগ করে দিতে
হবে।
অত্যধিক জনসংখ্যা অধ্যুষিত
বাংলাদেশের এক একটি শিশুকে
দক্ষ মানব সম্পদে পরিণত করে দেশের
সমৃদ্ধি অর্জন করতে হলে এর বিকল্প
নেই। ক্ষুধা, দারিদ্র্য, বেকারত্ব,
সন্ত্রাস, দুর্নীতি, মাদকাসক্তি তথা
সব ধরনের সামাজিক অবক্ষয় থেকে
জাতিকে রক্ষা করতে হলে শিশুর
পরিপূর্ণ বিকাশ নিশ্চিত করতে
হবে।গর্ভাবস্থা থেকে প্রথম পাঁচ
বছর শিশুর বিকাশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ
সময়।জীবনের প্রথম বছর গুলোতে শিশু
যা শেখে, যেভাবে শেখে; তা-ই
তাদের ভবিষ্যৎ বুদ্ধিমত্তা,
ব্যক্তিত্ব, নৈতিক ও সামাজিক
আচরণের ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।
মানসিক বিকাশ মস্তিষ্কের
বিকাশের ওপর নির্ভরশীল।
মাতৃগর্ভে থাকা অবস্থায় নিউরন
নামক মস্তিষ্কের কোষের সংখ্যা
বৃদ্ধি পেতে থাকে। গর্ভবতী
মায়ের সুষম খাবার, শারীরিক ও
মানসিক সুস্থতা গর্ভস্থ শিশুর
নিউরনের সুষ্ঠু বৃদ্ধি নিশ্চিত করে।
জন্মের পর এ কোষের সংখ্যা বৃদ্ধি
হয় না, তবে পারস্পরিক ক্রিয়ামূলক
উদ্দীপনার দ্বারা নিউরন গুলোর
মধ্যে সংযোগ ঘটে এবং সেগুলো
সক্রিয়হয়। এ জন্য শিশু যাতে তার
পাঁচটি ইন্দ্রিয় প্রতিদিন বারবার
ব্যবহারের সুযোগ পায়, তার দিকে
যত্নবান হতে হবে। এতে মস্তিষ্কের
বিভিন্ন কোষের মধ্যে সংযোগ
ঘটবে এবং বারবার ব্যবহৃত সংযোগ
গুলো স্থায়ী হয়ে শিশুর দক্ষতা বৃদ্ধি
করতে থাকবে। শিশুর প্রথম জীবনে এ
ধরনের বিকাশের জন্য মা-বাবা সহ
পরিবারের অন্য সদস্যদেরও বিশেষ
ভূমিকা প্রয়োজন।
নিচের বিষয় গুলো নিশ্চিত করতে
পারলে একটি শিশু সুষ্ঠু শারীরিক ও
মানসিক বিকাশের সুযোগ লাভ
করবে :
১. গর্ভাবস্থায় মায়ের সুষম খাবার,
শারীরিক ও মানসিক সুস্বাস্থ্য
নিশ্চিত করা। নিরাপদ প্রসব ও প্রসব-
উত্তর পর্যাপ্ত যতের ব্যবস্থা করা।
২. শিশুর জন্মের পরপর শাল দুধ, ছয় মাস
বয়স পর্যন্ত শুধু বুকের দুধ এবং পরে
বুকের দুধের পাশাপাশি
পরিবারের অন্যান্য স্বাভাবিক
খাবার দেয়া।
৩. শিশুকে প্রচলিত সাতটি রোগের
টিকা প্রদান এবং অসুস্থ হলে
প্রয়োজনীয় সুচিকিৎসার ব্যবস্থা
করা।
৪. বুকের দুধ খাওয়ানো কিংবা
দৈনন্দিন কাজের সময় শিশুর দিকে
তাকিয়ে কথা বলা, মৃদু স্বরে গান
গাওয়া, দিনের কিছু সময় মৃদু শব্দে
শিশুকে উদ্দীপ্ত করা।
৫. শিশুর সাথে লুকোচুরি সহ
বিভিন্ন ধরনের আনন্দময় খেলাধুলা
করা। হাত-পা নেড়ে হালকা
ব্যায়াম করানো এবং সাথে
আনন্দসূচক শব্দ করে কথা বলা। গান,
ছড়া ওমজার মজার গল্প করে শিশুকে
সক্রিয়া করা।
৬. শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সহ
পরিবেশের নতুন নতুন জিনিসের
সাথে শিশুর পরিচয় করিয়ে দেয়া।
শিশুকে ছোট ছোট প্রশ্ন করা এবং
জবাব দেয়া।
৭. শিশুকে বসতে, দাঁড়াতে ও
হাঁটতে সহায়তা করা। নিরাপদ
পরিবেশে বাড়িতে ছোটাছুটি
বা গড়াগড়ি করতে দেয়া (এমনকি
আঙিনা বা মাঠের সবুজ ঘাসেও)।
৮. শিশুকে দাঁত মাজা, হাত ধোয়া,
নিজে নিজে পোশাক পরা,
প্রস্রাব-পায়খানার নির্দিষ্ট স্থান
ব্যবহার করতে শেখানো।
৯. শিশুকে পরিবারে ছোট ছোট
কাজে উৎসাহিত করা, পর্যাপ্ত
খেলাধুলা ও বিনোদনের ব্যবস্থা
করা এবং শিশুর ভালো কাজের
প্রশংসা করা।
১০. অন্য শিশু ও পরিবারের বাইরের
লোকদের সাথে মেলা মেশার
সুযোগ করে দেয়া।বড়দের সাথে
কিভাবে আচরণ করতে হবে, তা
শেখানো এবং পালন করতে
উৎসাহিত করা।
সূত্র - নয়া দিগন্ত

Monday, December 7, 2015

আগাম মৃত্যুর কারণ হতে পারে অতিরিক্ত ঘুম

এইডস এর বিরুদ্ধে লড়তে সক্ষম ভিটামিন
ডি,
আইসিডিডিআরবি’র শিশুখাদ্যে
আপত্তি
ভোজ্যতেলে ভিটামিন-এ সমৃদ্ধকরণ আইন
সুন্দর ত্বকের জন্য পরীক্ষিত নিম
কিডনি রক্ত পরিরিশোধন করে
visit all bangla newspaper In one page
অনলাইন ইওর হেলথ আপনার স্বাস্থ্য
আগাম মৃত্যুর কারণ হতে পারে
অতিরিক্ত ঘুম
all rights reserved onlineyourhealth.com Email: info@onlineyourhealth.com
onlineyourhealth@gmail.com
প্রচ্ছদ ভেষজ ও হারবাল মাতৃ স্বাস্থ্য শিশুর স্বাস্থ্য আপনার স্বাস্থ্য চিকিৎসা চিত্র স্বাস্থ্য জিজ্ঞাসা 
আরও 
সর্বশেষ আসছে পুরুষদের গর্ভনিরোধক ইঞ্জেকশন - October 21, 2015
অনলাইন ইওর হেল্থ
ডেস্কঃ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য
সাধারণত দিনে ৮ ঘণ্টার
কাছাকাছি ঘুমকে আদর্শ বলে
ধরা হয়। ঘুম না হওয়ার ফলে
মুটিয়ে যাওয়া, ডায়বেটিসে
আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি, রক্তচাপ
বৃদ্ধিসহ স্বাস্থ্যগত নানা
সমস্যা নিয়ে অনেকেই
উদ্বিগ্ন হন। কিন্তু প্রয়োজনের
অতিরিক্ত সময় ঘুমানোও যে
মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে
পারে তা নিয়ে খুব একটা
কথা হয় না। অথচ
বিশেষজ্ঞদের মতে অল্প ঘুমের
ন্যায় অতিরিক্তি ঘুমও
মানুষের জন্য ক্ষতিকর।
গবেষকদের মতে, দিনে ৬
ঘণ্টার কম বা ৮ ঘণ্টার বেশি
ঘুম-দুটোই মানুষের আগাম মৃত্যুর
কারণ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে
অতিরিক্ত ঘুমের কারণে
আগাম মৃত্যুর ঝুঁকি তুলনামূলক
বেশি।
যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি
অব ওয়ারউইকের
কার্ডিওভাস্কুলার মেডিসিন
ও এপিডেমিলজি বিভাগের
অধ্যাপক ফ্রাঙ্কো কাপুচ্চি এ
সংক্রান্ত ১৬টি গবেষণা
বিশ্লেষণ করেছেন। ১০ বছর
ধরে চালানো এসব গবেষণায়
১০ লাখের বেশি মানুষের
সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।
গবেষণায় অংশ নেওয়া
ব্যক্তিদের ৩ ভাগে বিভক্ত
করেছেন অধ্যাপক কাপুচ্চি।
তারা হলেন-দিনে ৬ ঘণ্টার
কম, ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা এবং ৮
ঘণ্টার বেশি ঘুমানো লোক।
বিশ্লেষণে তিনি দেখেন-৬
ঘণ্টার কম ঘুমান এমন লোকদের ৬
থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমানো
লোকের চেয়ে আগাম মৃত্যুর
হার ১২ শতাংশ বেশি।
অপরদিকে ৮ ঘণ্টার বেশি
ঘুমানো লোকদের মধ্যে এ হার
৩০ শতাংশ বেশি। আগাম মৃত্যু এ
ঝুঁকি দিনে কয়েকবার
অ্যালকোহল গ্রহণের কারণে
মৃত্যু ঝুঁকির প্রায় সমান। তবে
অধ্যাপক কাপুচ্চির গবেষণায়
প্রাপ্ত তথ্যের বিপরীত মতও
রয়েছে। মানুষ আসলে কতটা
সময় ঘুমায় তার সঠিক পরিমাপ
করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন
অনেক গবেষক। তাছাড়া
শিশু,তরুণ ও প্রাপ্ত বয়স্কদের
ঘুমের সময় ও ধরন আলাদা। তাই
ঠিক কতটা সময় ঘুমালে তাকে
অতিরিক্ত ঘুম বলা যাবে সে
বিষয়েও রয়েছে বিতর্ক। তবে
সব বিতর্কের পরও বিশেষজ্ঞরা
একটি বিষয়ে একমত, আর তা
হলো- ঘুম যতক্ষণই হোক না কেন
বয়সের তুলনায় তা বেশি হলে
অবশ্যই ক্ষতিকর।
সূত্র:বিবিসি হেলথ


Friday, November 27, 2015

কিডনী রোগথেকে বাঁচার৮টি স্বর্ণালিসোপান


কিডনী রোগের প্রাদুর্ভাব আজ
বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে। সমগ্র
বিশ্বের সাথে সাথে
বাংলাদেশেও এখন কিডনী রোগ
পরিস্থিতি ভয়াবহ। অত্যন্ত জনবহুল
এবং দরিদ্র দেশ হিসেবে
বাংলাদেশের চিকিৎসক ও
চিকিৎসা ব্যবস্থার অপ্রতুলতার
কারণে এদেশের কিডনী বিকল
রোগীদের চিকিৎসার সুযোগ খুবই
সীমিত।
বিশ্বব্যাপী কিডনী রোগীদের
নিয়ে চিন্তার ধরন আজ বদলে
গেছে। এখন কিডনী বিকল
রোগীদের চিকিৎসার চেয়ে
গুরুত্ব পাচ্ছে কিডনী বিকল
প্রতিরোধ করা। এর যুক্তিযুক্ত
কারণও আছে। দেখা গেছে, গত বছর
যুক্তরাষ্ট্রের কিডনী রোগীদের
চিকিৎসায় ব্যয় হয়েছে ৪৮
বিলিয়ন ডলার যা আমাদের
জাতীয় বাজেটের দ্বিগুণের
চেয়েও বেশি। অন্যদিকে
যুক্তরাজ্যের এক পরিসংখ্যানে
দেখা গেছে, শুধু কিডনী বিকল
চিকিৎসায় যে অর্থ ব্যয় হয় তা
যুক্তভাবে ফুসফুসের ক্যান্সার,
খাদ্যনালীর ক্যান্সার, লিভার
ক্যান্সার ও ত্বকের ক্যান্সার
চিকিৎসার চেয়েও অনেক বেশি।
এতে সহজেই বোঝা যায় যে,
কিডনী বিকল কতটা ভয়াবহ।
কিডনী বিকলের ফলে যে শুধু
একটা মানুষের অকাল মৃত্যু হয় তা
নয়। বরঞ্চ পুরো পরিবারকে
অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংসের মুখে
ঠেলে দেয়। তাই এই ভয়াবহ রোগ
প্রতিরোধের জন্য এখন বিশ্ব তৎপর।
আসুন তাহলে আমরা সংক্ষেপে
জেনে নেই কিভাবে আমরা
ভয়াবহ কিডনী বিকল থেকে
নিজেদের রক্ষা করতে পারি
এবং আমাদের এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ
কিডনীকে সুস্থ রাখতে পারি।
এখানে একটি অত্যন্ত মূল্যবান তথ্য
জানিয়ে রাখি যে,
বাংলাদেশসহ সার্কভুক্ত
দেশগুলোতে যেখানে সরকারি ও
বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠান মিলে
শতকরা ৫ ভাগ কিডনী বিকল
রোগীদের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা
দিতে হিমশিম খাচ্ছে সেখানে
একটু সচেতন হলে ৬০ ভাগ ক্ষেত্রে
কিডনী বিকল প্রতিরোধ করা
সম্ভব। এজন্য অনেক টাকার দরকার হয়
না, প্রয়োজন শুধু আমাদের দৈনন্দিন
জীবনযাত্রায় কিছু অভ্যাসের
পরিবর্তন ও তা নিয়মিত চর্চা করা।
বিশ্বব্যাপী গৃহীত সেই স্বর্ণালি
উপায় নিয়ে সংক্ষেপে
আলোকপাত করছি।
এই আটটি পদ্ধতি হল-
১. কায়িক পরিশ্রম ও নিয়মিত
ব্যায়াম করা
২. উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিস
নিয়ন্ত্রণে রাখা
৩. সুপ্ত উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য
নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা
৪. স্বাস্থ্যসম্মত খাবার গ্রহণ এবং
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা
৫. পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান
করা
৬. ধূমপান থেকে বিরত থাকা
৭. ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া
কোনো ঔষধ সেবন না করা এবং
৮. নিয়মিত কিডনীর
কার্যকারিতা পরীক্ষা করা
সমসাময়িক সময়ে কিডনী রোগ
প্রতিরোধে যে ৮টি স্বর্ণালি
সোপানের ওপর জোর দেওয়া
হয়েছে সে বিষয়ে খানিকটা
আলোকপাত করি ।
কায়িক পরিশ্রম ও নিয়মিত
ব্যায়াম করা
কায়িক পরিশ্রম ও নিয়মিত
ব্যায়াম কিডনী রোগ প্রতিরোধ
করে। পাশাপাশি ডায়াবেটিক ও
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আনে,
কোলেস্টেরল কমিয়ে হৃদরোগ
প্রতিরোধ করে এবং রক্তনালী
সচল রাখে। সমীক্ষায় দেখা
গেছে শুধু নিয়মিত হাঁটার কারণে
গড় আয়ু ১৩ বছর পর্যন্ত বাড়ানো
যেতে পারে।
উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিস
নিয়ন্ত্রণে রাখা
উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস
কিডনী বিকলের প্রধান কারণ
হিসাবে চিহ্নিত। এ দুটি রোগ শুধু
কিডনী বিকলই করে না হৃদরোগ,
ব্রেইন স্ট্রোক, অন্ধত্ববরণসহ অসংখ্য
রোগের জন্ম দেয়। কাজেই এদের
হাত থেকে বাঁচতে হলে রক্ত চাপ
এমন ভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে
যেন তা ১৩০/৮০ নিচে থাকে।
এবংব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে
রাখতে হবে যাতে হিমগ্লোবিন
HbA1C লেভেল ৭ এর নিচে
থাকে।
সুপ্ত উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য
নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা
বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে
আমাদের দেশের প্রাপ্ত বয়স্কদের
মধ্যে ২০ থেকে ৩০ ভাগ লোকেরই
উচ্চ রক্তচাপ আছে। কিন্তু শতকরা
৫০ভাগ এর অধিক লোকই জানেন
না যে তাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে।
কারণ এর কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায়
না। তাই সুপ্ত রক্তচাপ নির্ণয়ের
জন্য বছরে ৩/৪ বার রক্তচাপ
মাপিয়ে নেয়া উচিত।
স্বাস্থ্যসম্মত খাবার গ্রহণ এবং ওজন
নিয়ন্ত্রণে রাখা
পরিমিত সুষম খাবার সুস্বাস্থ্যের
জন্য অত্যন্ত অপরিহার্য। মনে
রাখতে হবে যে, অতি ভোজন ও
অতি ওজন স্বাস্থ্যের জন্যে
ক্ষতিকর। খাবারের সাথে আলগা
লবণ পরিহার করতে হবে। অতি
মসলাযুক্ত, বেশি ভাজা পোড়া
খাবার, অতিরিক্ত ঝাল এবং
প্রাণিজ তেল যেমন গরু খাসির
চর্বি, ঘি, মাখন নিয়ন্ত্রণ করে
খেতে হবে। শুধু পরিমাণে বেশি
ও দামি খাবার খেলেই সুখাদ্য হয়
না। খাবারের মধ্যে ৫টি উপাদান
আছে কি না তা সবসময়ই খেয়াল
রাখতে হবে। যেমন শর্করা
জাতীয়- ভাত, রুটি, পিঠা। আমিষ
জাতীয়- মাছ, মাংস, ডিম, দুধ,
ডাল। স্নেহ জাতীয়- সয়াবিন,
সরিষার তেল, সানফ্লাওয়ার।
পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান
করা
পানির অপর নাম জীবন। কিডনী
সচল রাখতে পর্যাপ্ত পরিমাণে
পানি পান করা উচিত। একজন বয়স্ক
লোকের প্রতিদিন দেড় থেকে
তিন লিটার পানি পান করা
উচিত। তবে যাদের কিডনীতে
পাথর আছে যাদের প্রশ্রাবে ঘন ঘন
ইনফেকশন হয়, যারা রোদে এবং
কলকারখানায় কাজ করে তাদের
পানি আরও বেশি পরিমাণ খেতে
হবে, যাতে প্রশ্র্রাবের রং
পানির মত থাকে অথবা এক থেকে
দেড় লিটার প্রশ্রাব হয়। তবে
যাদের শরীরের অতিরিক্ত পানি
জমা আছে তাদের ডাক্তারের
নির্দেশ মতো পানি পান করতে
হবে।
ধূমপান থেকে বিরত থাকা
একটি জনপ্রিয় প্রবাদ বাক্য হচ্ছে -
‘ধূমপানে বিষপান’। বিশ্ব স্বাস্থ্য
সংস্থার এক জরিপে দেখা
গেছে, প্রতি বছর শুধু ধূমপানের জন্য
সারা বিশ্বে মৃত্যু হয় ৬৬ লক্ষ
মানুষের। ধূমপানের ফলে কিডনী
বিকল হয়, কিডনীতে ক্যান্সার হয় ,
কিডনী ও মূত্রণালিতে ক্যান্সার
সৃষ্টি হয়। এছাড়া ধূমপান ফুসফুসের
ক্যান্সার, মুখ ও খাদ্যনালির
ক্যান্সার, হৃদরোগ, ষ্ট্রোকসহ অসংখ্য
মরণব্যধির কারণ। কাজেই এসব রোগ
থেকে পরিত্রাণ পেতে ধূমপান
পরিহার করতে হবে।
ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া
কোনো ঔষধ সেবন না করা
দীর্ঘমেয়াদী বিভিন্ন ব্যথা-
বেদনার ট্যাবলেট খাওয়ার ফলে
কিডনী বিকল হয়ে যেতে পারে।
বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা যায়
যে, ১০ থেকে ১৫ ভাগ কিডনী
বিকল হয় ঔষধ খাওয়ার কারণে।
এছাড়াও এন্টিবায়োটিকসহ অনেক
ঔষধ কিডনীর মারাত্মক ক্ষতি
করতে পারে। এই ক্ষতির মাত্রা
ঔষুধের মাত্রা ও কতোদিন খাচ্ছে
তার ওপর অনেক সময় নির্ভর করে।
আবার অনেক সময় এলার্জির
কারণে স্বল্প মাত্রার ঔষধেও
কিডনী বিকলের কারণ হয়ে
দাঁড়ায় কাজেই ডাক্তারের
পরামর্শ ছাড়া কোনো ঔষধ সেবন
করা উচিত নয়।
নিয়মিত কিডনীর কার্যকারিতা
পরীক্ষা করা
কিডনী রোগ কে বলা হয় নীরব
ঘাতক। কারণ ৭০ থেকে ৮০ভাগ
কিডনী নষ্ট হওয়ার আগে অনেকসময়
কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। অথচ
সামান্য রক্ত ও প্রশ্রাব পরীক্ষা
করেই এ রোগ সুপ্ত অবস্থায় দেহে
আছে কিনা তা নির্ণয় করা যায়।
কাজেই যাদের মধ্যে কিডনী
রোগের ঝুঁকি বেশি- যেমন যাদের
ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ আছে,
যাদের মুখ ও শরীর ফুলে গেছে,
যাদের কিডনীতে পাথর আছে,
যাদের প্রশ্রাবে বাঁধা জনিত
রোগ আছে, প্রশ্রাবে যাদের
ইনফেকশনের ইতিহাস আছে,
যাদের বংশে কিডনী রোগের
ইতিহাস আছে, যাদের বয়স ৪০ এর
উপরে তাদের বছরে দুই বার কিডনী
পরীক্ষা করিয়ে নেয়া উচিত।
স্বাস্থ্য একটি অমূল্য সম্পদ এই সম্পদ
সংরক্ষণের জন্যে উপরে উল্লিখিত
পরামর্শ সমূহ যদি জীবনের শুরু
থেকেই মেনে চলা যায় তাহলে
শুধু কিডনী নয় সকল অসংক্রামক
ব্যাধি থেকেই নিজেকে রক্ষা
করা সম্ভব। কাজেই আসুন সকলেই
নিয়মগুলো মেনে চলার চেষ্টা
করি। এতে অর্থ ব্যয় হবে সামান্যই।
তবে যে উপকার পাওয়া যাবে
তা অমূল্য।
অধ্যাপক ডা. এম এ সামাদ :
এমবিবিএস, এমডি, এফসিপিএস,
এফআরসিপি। সভাপতি, কিডনী
এওয়ারনেস মনিটরিং এন্ড
প্রিভেনশন সোসাইটি (ক্যাম্পস)।

Thursday, November 26, 2015

অসহ্য বাতেরব্যাথা প্রতিরোধেরকার্যকরী উপায়

বাত একটি সিস্টেমিক ডিজিজ
অর্থাত্ যা কিনা পুরো শরীরে
প্রভাব ফেলে। 

অস্থিসন্ধিতে
ইউরিক এসিড জমা হয়ে এ রোগের
উত্পত্তি হয়। মূত্রের মাধ্যমে যে
পরিমাণ স্বাভাবিক ইউরিক এসিড
বেরিয়ে যায়, তার থেকে বেশি
পরিমাণ ইউরিক এসিড যখন
আমাদের যকৃত্ তৈরি করে তখনই তা
রক্তের পরিমাণ বাড়ায়। অথবা
খাবারের মাধ্যমে বেশি
পরিমাণ ইউরিক এসিডের উত্স
যেমন লাল মাংস, ক্রিম, রেড
ওয়াইন ইত্যাদি গ্রহণ করলে এবং
বৃক্ক (কিডনি) রক্ত থেকে যথেষ্ট
পরিমাণে তা ফিল্টার করতে না
পারলে বাতের উপসর্গগুলো দেখা
দেয়।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইউরিক এসিড
অস্থিসন্ধিতে ক্রিস্টালরূপে জমা
হতে থাকে এবং তাতে
অস্থিসন্ধি ফুলে যায়, প্রদাহ এবং
ব্যথা হয় এবং সেই সঙ্গে
অস্থিসন্ধি ধীরে ধীরে শক্ত হয়ে
যায়। বাত সাধারণত পায়ের
আঙুলের অস্থিসন্ধিকে আক্রান্ত
করে।
বিশ্বের অনেক মানুষই বাতের
ব্যথায় আক্রান্ত এবং প্রতিদিনই এই
সংখ্যা বেড়ে চলেছে
আশংকাজনক হারে। বিশেষ করে
ধনীদের ক্ষেত্রে এ রোগ বেশি
দেখা দেয়। কারণ উন্নতমানের
খাওয়া বিশেষ করে মাছ মাংস
ইত্যাদি যারা বেশি খান তাদের
এ বাতের সমস্যায় পড়তে হয়।
এছাড়া দৈনন্দিন জীবনে যারা
অলস তাদের ক্ষেত্রেও এ সমস্যা
সৃষ্টি হয়। আবার বাতের ব্যথা মূলত
দুই ধরণের কারণে হয়ে থাকে।
প্রথমত, বয়স জনিত হাড়ের দুর্বলতা
থেকে এবং দ্বিতীয়ত, হাড়ের
জয়েন্ট দুর্বল ও হাড়ে
ক্যালসিয়ামের অভাব জনিত
কারনে। প্রখমে এটি পায়ের
আঙ্গুলে পরে আস্তে আস্তে হাড়সহ
শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টে এ রোগ
ছড়িয়ে পড়ে। বাত
আক্রান্তস্থানে প্রচুর গরম অনুভুত হয়
এবং অসহনীয় ব্যাথার সৃষ্টি হয়।
রোগের প্রাদুর্ভাব
বাত সাধারণত ৪০ থেকে ৫০ বছর
বয়সী পুরুষদের ক্ষেত্রে বেশি হয়ে
থাকে। মহিলাদের ক্ষেত্রে
সাধারণত এটি রজঃনিবৃত্তির পর
অর্থাত্ ৪৫ বছরের পর দেখা দেয়।
শিশু এবং তরুণদের সাধারণত এ
রোগে আক্রান্ত হতে দেখা যায়
না।
কারণ এবং ঝুঁকিগুলো
অস্থিসন্ধিতে ইউরিক এসিড জমার
কারণেই বাত হয়ে থাকে। শতকরা
২০ ভাগেরও বেশি রোগীর
ক্ষেত্রেই দেখা যায়,
বাতরোগের পারিবারিক
ইতিহাস থাকে। যেসব কারণে
বাতরোগের ঝুঁকি বাড়ে তার
মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
ডায়াবেটিস, শরীর মোটা হয়ে
যাওয়া, কিডনির রোগগুলো, সিকল
সেল এনিমিয়া (এক ধরনের
রক্তস্বল্পতা)। নিয়মিত অ্যালকোহল
পান করলে তা দেহ থেকে ইউরিক
এসিড বের করে দেয়ায় বাধা
দেয় এবং প্রকারান্তরে বাতের
ঝুঁকি বাড়ায়।
কিছু কিছু ওষুধ যেমন—অ্যাসপিরিন,
বিভিন্ন ডাই-ইউরেটিকস,
লিভোডোপা, সাইক্লোস্পোরিন
ইত্যাদি অনেক সময় বাতের ঝুঁকি
বাড়ায়।
রোগের লক্ষণগুলো
বাতের সমস্যা সাধারণত
বৃদ্ধাঙ্গুলিতে প্রথম দেখা দেয়। এর
প্রধান লক্ষণগুলো হচ্ছে—CXUIDTU
— প্রদাহ
— ব্যথা
— অস্থিসন্ধি লাল হয়ে যাওয়া
— অস্থিসন্ধি ফুলে যাওয়া
ইত্যাদি।
— বাতে পায়ের অঙুল নাড়াতে
তীব্র ব্যথা হয়; অনেক সময়
রোগীরা বলে থাকে যে,
চাদরের স্পর্শেও ব্যথা লাগে।
বাতের লক্ষণগুলো খুব দ্রুতই দেখা
দেয়, যেমন কখনও কখনও এক দিনের
মধ্যেই দেখা দেয় এবং একই সঙ্গে
একটি মাত্র অস্থিসন্ধিতে লক্ষণ
দেখা দেয়। বিরল ক্ষেত্রে ২-৩টি
অস্থিসন্ধিতে এক সঙ্গে ব্যথা হয়।
যদি অনেক স্থানে এক সঙ্গে লক্ষণ
দেখা দেয়, তবে হয়তো তা
বাতের কারণে নাও হতে পারে।
তবে চিকিত্সা না করা হলে বাত
অস্থিসন্ধির যথেষ্ট ক্ষতি করতে
এমনকি চলনক্ষমতাও হ্রাস করতে
পারে।
চিকিত্সা
চিকিত্সার মূল লক্ষ্য হচ্ছে
অস্থিসন্ধিতে ইউরিক এসিডের
পরিমাণ কমিয়ে আনা এবং এর
মাধ্যমে রোগের লক্ষণ এবং
পরবর্তী অবনতি ঠেকানো।
চিকিত্সা না করা হলে বাত
অস্থিসন্ধির যথেষ্ট ক্ষতি করতে
এমনকি চলনক্ষমতাও হ্রাস করতে
পারে। সচরাচর দেখা যায়, ঘন ঘন
রোগের লক্ষণগুলো প্রকাশ না
পেলে লোকজন এর চিকিত্সা
করাতে চায় না। ওষুধের মধ্যে
আছে ন্যাপ্রোক্সেন এবং
ইন্ডোমিথাসিনের মতো
এনএসএআইডি জাতীয় ওষুধ।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এড়াতে
চিকিত্সকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ
গ্রহণ করা এবং সেই সঙ্গে
যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া দরকার।
প্রেডনিসোলোনের মতো
স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধও মুখে
খাওয়া যেতে পারে অথবা
আক্রান্ত স্থানে ইনজেকশনের
মাধ্যমে ব্যবহার করা যেতে
পারে। অ্যালোপিউরিনল,
কোলচিসিন এবং প্রোবেনেসিড
আলাদাভাবে কিংবা এক সঙ্গে
ব্যবহার করা যেতে পারে। এই
ওষুধগুলো দ্রুত কার্যকর হয় তখনই, যখন
এগুলো রোগের লক্ষণ দেখা
দেয়ার ১২ ঘণ্টার মধ্যেই ব্যবহার
করা যায়।
প্রতিরোধ
প্রতিরোধই বাতের সমস্যা থেকে
উপশমের উত্তম উপায়। রোগ দেখা
দিলে ওষুধের মাধ্যমে প্রতিকার
পাওয়া যায় বটে, তবে তখন
অ্যালকোহল এবং যেসব খাবার
গ্রহণ করলে ইউরিক এসিড মজুদ হওয়া
বেড়ে যায়, সেসব থেকে দূরে
থাকা অবশ্য কর্তব্য।
এছাড়া রোগীকে প্রচুর পানি
খেতে হবে, নিয়মিত ব্যায়াম
করতে হবে, সুষম খাবার ব্যবহার
করার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের ওজন
ঠিক রাখতে হবে। তবে সবচেয়ে
বড় কথা হলো, রোগ হলে অবশ্যই
একজন অভিজ্ঞ চিকিত্সকের
শরণাপন্ন হয়ে তার পরামর্শ মতো
চলতে হবে।
এছাড়াও জেনে নিন বাতের
ব্যথার কবল থেকে বাঁচার জন্য
কার্যকরী কিছু টিপস।
•লিফট বা এস্কেলেটরের
পরিবর্তে সিঁড়ি ব্যবহার করুন।
•প্রতিদিন সকালে উঠে ৫-১০
মিনিট জোরে হাঁটুন বা জগিং
করুন।
•গাড়িতে ওঠার আগে কিংবা
লম্বা জার্নির শুরুতে অন্তত ৫০০
মিটার পায়ে হেঁটে নিন।
•ওজন কমানোর দিকে মনোযোগী
হোন।
•প্রতিদিন ৬-৮ গ্লাস পানি খান।
•ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন সমৃদ্ধ
খাবার প্রতিদিন পরিমিত
পরিমানে খান।
•একটানা অনেকক্ষণ বসে থাকবেন
না। ১৫-২০ মিনিট পর পর খানিকটা
হেঁটে নিন।
•ধূমপান ও মদ্যপান হাড়ের
ক্যালসিয়াম শুকিয়ে দেয়ার জন্য
দায়ী। ধূমপান ও মদ্যপান বন্ধ করুন।
•প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় দুধ
রাখুন। যদি ‘লাক্টোস ইনটলারেন্ট’
হয়ে থাকেন তবে ব্রকলি খান
ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পুরনের
জন্য।
•প্রতিদিন ব্যায়ামের জন্য অন্তত
১০ মিনিট রাখুন।
•সপ্তাহে অন্তত ২ বার খানিকটা
তেল গরম করে নিয়ে হাড়ের
জয়েন্টে ম্যাসাজ করুন।
•যারা ব্যথা ভুগছেন তারা
আক্রান্ত স্থানে প্রতিদিন গরম
তুলা. কাপড় বা পানির সেঁক নিন।


দাঁতের শিরশির বন্ধে সঠিকযত্ন


কমবেশি অনেকের মধ্যেই দাঁত শিরশির
নিয়ে অস্বস্তি রয়েছে। এতে খাবার
গ্রহণ বা তরলজাতীয় কোনো কিছু
খাওয়া, ব্রাশ করা, এমনকি শ্বাস
নেওয়ার সময় অস্বস্তিকর অবস্থার সৃষ্টি
হয়ে থাকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই
দেখা যায়, ঠান্ডা কোনো খাবার
খেলে দাঁত শিরশির করে, যদি দাঁতে
সমস্যা থাকে। তবে টক বা
মিষ্টিজাতীয় খাবার গ্রহণের সময়ও একই
ধরনের অনুভূতি হতে পারে। কারও
দাঁতের সাদা অংশ এনামেল ক্ষয় হয়ে
ডেন্টিন নামের অংশটি যখন বের হয়ে
যায়, তখনই দাঁতে ঠান্ডা কিছু লাগলে
শিরশির করে।
কারণ
দাঁতের এনামেল ক্ষয়
দাঁতে গর্তের সৃষ্টি
অনেক দিনের পুরোনো ফিলিং
মাড়ি ক্ষয় হয়ে দাঁতের রুট বা গোড়া
বের হয়ে গেলে, দাঁত আঘাতপ্রাপ্ত
হলে প্রাথমিক অবস্থায় বা সঠিক সময়ে
সঠিক কারণ নির্ধারণ করে একজন
চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসা গ্রহণ
করলে অনেক ভালো ফল পাওয়া যায়।
দাঁতের শিরশির বন্ধে সঠিক যত্ন
নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করলে দাঁতের
ফাঁকে কোনো জীবাণু তৈরি হতে
পারবে না। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার
আগে এবং সকালে নাশতা করার পরে
দাঁত ব্রাশ করুন নিয়মিত।
দাঁত ব্রাশ করার জন্য সেনসিটিভিটি
রোধ করে—এমন টুথপেস্ট ব্যবহার করুন।
এমনটাই মত প্রায় ৯ শতাংশ
ডেন্টিস্টের। তাঁরা মনে করেন, এমন
টুথপেস্ট আপনার দাঁত শিরশিরের
যন্ত্রণা থেকে রেহাই দেবে
অনেকটা।
ব্রাশ করুন আস্তে আস্তে। দাঁতের ওপর
চাপ দেবেন না। জোরে ব্রাশ করাটা
দাঁতের শিরশির ভাব আরও বাড়িয়ে
দেবে। হালকা কোমল ব্রাশ ব্যবহার
করুন। এতে সমস্যা থেকে রেহাই মিলবে
অনেকটা।
যেকোনো অ্যাসিটিক খাবার
খাওয়ার সময়ও একটু সচেতন হোন। যেমন:
ফলের জুস, কোমল পানীয়—এসব দাঁতের
এনামেল নষ্ট করে ফেলে। তাই এসব
পান করার পরই দাঁত পরিষ্কার করে
ফেলুন।
আপনার যদি নিয়মিত দাঁতে দাঁত ঘষা
বা দাঁত চেপে রাখার অভ্যাস থাকে,
তাহলে সেটা ত্যাগ করাই ভালো।
অনেকেই দাঁতের শিরশির করা
অংশটি ব্রাশ করে না। কিন্তু এতে
সমস্যা বেড়ে প্রকট আকার ধারণ করতে
পারে।
 ঢাকা ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল|
ডা. মোখলেছুর রহমান |

Wednesday, November 25, 2015

যে ৭টি লক্ষণে বুঝবেন আপনারশরীরে বাসা বেঁধেছেক্যান্সার


বর্তমানে ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর
সংখ্যা বেড়েছে অনেক বেশী। এবং
প্রতিদিনই আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে
চলেছে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা।
ধূমপান, সূর্যের রশ্মি, রাসায়নিক পদার্থ,
বাড়তি ওজন সহ আরও নানান কারণে
কান্সারে আক্রান্ত হতে পারেন যে
কোনো মানুষ। জরিপে দেখা যায়
সাধারণত প্রতি ৪ জন ক্যান্সারে
আক্রান্ত রোগীর মধ্যে মারা যান ১ জন
ব্যক্তি। কিন্তু চিকিৎসার অভাব ও
অবহেলার কারণে এই সংখ্যা বেড়ে
দাঁড়ায় ৩ জন পর্যন্ত।
অনেক সময় ক্যান্সারের লক্ষণ গুলো
ভালো ভাবে না জানার কারণে
শরীরে ছড়িয়ে পরে ক্যান্সার। যা
বেশি মাত্রায় ছড়ানোর পর চিকিৎসা
করে ভালো করা সম্ভব হয় না।
ক্যান্সারের লক্ষণগুলোকে ভালো
ভাবে জানলে প্রাথমিক পর্যায়ে
চিকিৎসার মাধ্যমে ক্যান্সারকে
নির্মূল করা সম্ভব হয়। তাই আমাদের
জানতে হবে ক্যান্সারের
লক্ষণগুলোকে।
অতিরিক্ত মাত্রায় ওজন কমে যাওয়া
কোন কষ্ট না করেও ওজন কমতে থাকলে
খুব খুশি হওয়ার কিছুই নেই। এটা হতে
পারে ক্যান্সারের লক্ষণ। ডায়েটিং
কিংবা খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করে
ওজন কমতে থাকলে সমস্যা নয়। সমস্যা
হলো কোন প্রকার ডায়েটিং কিংবা
খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন না করে ওজন
কমতে থাকলে। এবং বেশি মাত্রায়
কমতে থাকলে। অবশ্যই ডাক্তারের
কাছে চেকআপের জন্য যাওয়া দরকার।
ক্রমাগত জ্বর এবং কাশি হওয়া
ঠাণ্ডা কিংবা ঋতু পরিবর্তনের সময়
একটু আধটু জ্বর বা কাশি হওয়াকে আমরা
কেউই পাত্তা দিই না। কিন্তু যদি
টানা জ্বর উঠা এবং কাশি থাকা শুরু
করে তবে অবশ্যই ডাক্তারের কাছে
যাওয়া প্রয়োজন। কারন ক্রমাগত জ্বর
ওঠা এবং কাশি হতে পারে ব্লাড
ক্যান্সার, লিম্ফোমা, লিউকোমিয়ার
লক্ষণ। ক্রমাগত জ্বর এবং কাশি থাকা
অবহেলা করবেন না কখনোই।
অতিরিক্ত এবং প্রায়ই মাথা ব্যথা
এবং মেরুদণ্ড ব্যথা হওয়া
মাইগ্রেনের কারণে অনেকেই মাথা
ব্যথায় ভুগে থাকেন। ঠাণ্ডা লেগেও
অনেকের মাথা ব্যথা হয়। কিন্তু
একটানা অতিরিক্ত মাথা ব্যথা হওয়া
ভালো লক্ষণ নয়। ডাক্তারের কাছে
পরামর্শের জন্য চেকআপ করান। কারণ
অতিরিক্ত মাথা ব্যথা হতে পারে
‘ব্রেইন ক্যান্সারের’ লক্ষণ। আবার
একটানা বসে থাকলে পিঠ না মেরুদণ্ড
ব্যথা হয় বলে আমরা মেরুদণ্ড ব্যথাকে
পাত্তা দেই না। কিন্তু এটিও হতে
পারে ক্যান্সারের লক্ষণ। সুতরাং
অবহেলা না করে চেকআপ করান।
চামড়ার নিচে ফোলা বা দলা ভাব
ক্যান্সারের প্রথম এবং প্রধান লক্ষণ
হচ্ছে শরীরের চামড়ার নিচে গুটি গুটি
হয়ে ফুলে ওঠা বা দলা পাকানো
গোটার মতো অনুভব করা। তবে এই গুটি
গুলো বুক বা বুকের আশে পাশে অথবা
যৌনাঙ্গে দেখা দিলে ক্যান্সারের
লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়। শরীরের অন্যান্য
অংশ যেমন হাত, পায়ে দেখা দিলে
ভয়ের কিছু নেই।
অস্বাভাবিক রক্তপাত
কফ বা কাশির সাথে রক্ত যাওয়া
ফুসফুসের ক্যান্সারের লক্ষণ হিসেবে
ধরা হয়। এছাড়া পস্রাব-পায়খানার
সাথে রক্ত পরাও হতে পারে ব্লাডার
ক্যান্সারের কারন। স্তন থেকে রক্ত
পরা স্তন ক্যান্সারের লক্ষণ। এইসব লক্ষণ
দেখার সাথে সাথে ডাক্তারের
শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।
শরীরের চামড়ায় পরিবর্তন
চামড়ায় ছোট ছোট দানা হওয়া
কিংবা শরীরের চামড়ার মাঝে
মাঝে রঙের পরিবর্তন, কোন কারণ
ছাড়াই জখমের মত দাগ হওয়া সবই
মেলানোমার লক্ষণ। অর্থাৎ চামড়ার
ক্যান্সারের লক্ষণ। এইসব দাগ কিংবা
পরিবর্তনের দিকে লক্ষ রাখুন। চামড়ায়
কোনো ধরনের পরিবর্তনে অবশ্যই
ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।
খুব দ্রুত ক্লান্ত এবং অবসাদগ্রস্থ হয়ে
পড়া
অনেক সময় কাজের ব্যস্ততায় কিংবা
কাজের মধ্যে থাকলে আমরা ক্লান্তি
বোধ করি। এমনকি মাঝে মাঝেই
ক্লান্ত এবং অবসাদগ্রস্থ থাকি বলে এই
নিয়েই কাজ করি। অনেক সময় বিস্রাম
নেয়ার পরও এই ক্লান্তি দূর হয় না বলে
আমরা ভাবি আমাদের পরিমিত
বিশ্রাম হচ্ছে না। কিন্তু আমরা
ভাবতেও পারি না এটিও হতে পারে
ক্যান্সারের লক্ষণ। সামান্যতেই ক্লান্ত
এবং অবসাদবোধ হওয়াকে অবহেলা না
করে চেকআপের জন্য ডাক্তারের
কাছে যান।

এইডস, কারণ ও প্রতিকার...

চারটি ইংরেজি শব্দ Acquired Immune
Deficiency Syndrom এর সংক্ষিপ্ত রূপ হল AIDS
(এইডস)। আবার তিনটি ইংরেজী শব্দ
Human Immunodeficiency Virus এর সংক্ষিপ্ত
রূপ হল HIV (এইচআইভি)। এইচআইভির কারনে
এইডস হয়। কোন রোগ বা সংক্রমণ
প্রতিরোধ করার জন্য শরীরের
স্বাভাবিক ক্ষমতাকে এইচআইভি
ক্রমান্বায়ে ধ্বংস করে দেয়। তাই, এইডস
আক্রান্ত ব্যক্তি অতি সহজেই যেকোন
রোগে (যেমন: নিউমোনিয়া, যক্ষ্মা,
ডায়রিয়া) আক্রান্ত হয়ে পড়ে।
চিকিৎসা বিজ্ঞান এইডস এর কোন
প্রতিষেধক বা কার্যকর ওষুধ এখনও
আবিষ্কার করতে পারেনি।
মানবদেহে এইচআইভি প্রবেশ করার
সাথে সাথেই শরীরে এইডস এর লক্ষণ
দেখা যায় না। এইচআইভি শরীরে
প্রবেশ করার ঠিক কতদিন পর একজন
ব্যক্তির মধ্যে এইডস এর লক্ষণ দেখা
দেবে তা ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা
এবং অঞ্চলভেদে ভিন্ন হয়। তবে এটা
মনে করা হয়ে থাকে যে, এইচআইভি
সংক্রমণের শুরু থেকে এইডস- এ উত্তরণ
পর্যন্ত সময়ের ব্যাপ্তি সাধারণত ৬ মাস
থেকে বেশ কয়েক বৎসর এবং কোন কোন
ক্ষেত্রে ৫-১০ বৎসর অথবা তারও বেশি।
এই সুপ্তাবস্থার তাৎপর্য হচ্হে, এই সময়ের
মধ্যে এইচআইভি সংক্রমিত একজন ব্যক্তি
(যার শরীরে এইডস -এর কোন লক্ষণ যায়
নি বা যে আপাতদৃষ্টিতে সুস্খ) তার
অজান্তেই অন্য একজন সুস্থ ব্যক্তির দেহে
এইচআইভি ছড়িয়ে দিতে পারে।
এইডস এর প্রধান লক্ষনসমূহ
এইডস -এর নির্দিষ্ট কোন লক্ষণ নেই। তবে,
এইডস আক্রান্ত ব্যাক্তি অন্য যে রোগে
আক্রান্ত হয় সে রোগের লক্ষণ দেখা
যায়। এই লক্ষণগুলোর মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য
হচ্ছে: (১) শরীরের ওজন অতি দ্রুত হ্রাস
পাওয়া (২) দীর্ঘদিন (দুমাসেরও বেশি
সময়) ধরে পাতলা পায়খানা (৩) পুন: পুন:
জ্বর হওয়া বা রাতে শরীরে অতিরিক্ত
ঘাম হওয়া (৪) অতিরিক্ত অবসাদ অনুভব
হওয়া (৫) শুকনা কাশি হওয়া ইত্যাদি।
উল্ল্যেখ যে কারো মধ্যে উপরিউক্ত
একাধিক লক্ষণ দেখা দিলেই তার এইডস
হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া যাবে না।
তবে, কোন ব্যক্তির এসব লক্ষণ দেখা
দিলে বিলম্ব না করে অভিজ্ঞ
ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
এইচআইভি কিভাবে সংক্রমিত হয়
বায়ু, পনি, খাদ্য অথবা সাধারণ
ছোঁয়ায় বা স্পর্শে এইচআইভি ছড়ায়
না। এইচআইভি মানবদেহের কয়েকটি
নির্দিষ্ট তরল পদার্থে (রক্ত, বীর্য, বুকের
দুধ) বেশি থাকে। ফলে, মানব দেহের
এই তরল পদার্থগলো আদান-প্রদানের
মাধ্যমে এইচআইভি ছড়াতে পারে।
সুনির্দিষ্টভাবে যে যে উপায়ে
এইচআইভি ছড়াতে পারে তা হল:
১) এইচআইভি/এইডস আক্রান্ত রোগীর রক্ত
ব্যাক্তির দেহে পরিসঞ্চালন করলে
২) আক্রান্ত ব্যাক্তি কতৃক ব্যবহৃত সুচ বা
সিরিঞ্জ অন্য কোন ব্যাক্তি ব্যবহার
করলে
৩) আক্রান্ত ব্যক্তির কোন অঙ্গ অন্য
ব্যক্তির দেহে প্রতিস্থাপন করলে
৪) এইচআইভি/এইডস আক্রান্ত মায়ের
মাধ্যমে (গর্ভাবস্থায়, প্রসবকালে বা
সন্তানের মায়ের দুধ পানকালে)
৫) অনৈতিক ও অনিরাপদ দৈহিক মিলন
করলে
এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধ
এইচআইভি সংক্রমণের উপায়গুলো
জেনে এ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির
মাধ্যমে আমরা এইডস প্রতিরোধ করতে
পারি। এইডস প্রতিরোধে যেসব ব্যবস্থা
গ্রহণ করা যায় তা হল:
১) অন্যের রক্ত গ্রহণ বা অঙ্গ
প্রতিস্থাপনে আগে রক্তে এইচআইভি
আছে কিনা পরীক্ষা করে নেয়া
২) ইনজেকশন নেয়ার ক্ষেত্রে
প্রতিবারই নতুন সুচ/সিরিঞ্জ ব্যবহার করা
৩) অনিরাপদ যৌন আচরণ থেকে বিরত
থাকা
৪) এইচআইভি/এইডস আক্রান্ত মায়ের
সন্তান গ্রহণ বা সন্তানকে বুকের দুধ
দেয়ার ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ
নেয়া
৫) কোন যৌন রোগ থাকলে বিলম্ব না
করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া
যৌনরোগ এবং এইচআইভি
ইংরেজি শব্দাবলী Sexually Transmitted
Disease এবং Sexually Transmitted Infection এর
সংক্ষিপ্ত নাম যথাক্রমে এসটিডি
(STD) এবং এসটিআই (STI)। এসব রোগ বা
সংক্রমণ সাধারণত অনিরাপদ
যৌনমিলনে মাধ্যমে বিস্তার লাভ
করে। কিছু কিছু যৌনরোগ যৌনমিলন
ছাড়া অন্য উপয়েও সংক্রমিত হতে
পারে। যৌনরোগসমূহ ভাইরাসঘটিত
অথবা ব্যকটেরিয়া ঘটিত হতে পারে। এ
ধরনের প্রধান রোগগুলো হল: গনোরিয়া,
সিফিলিস, ক্ল্যামিডিয়া, এইচআইভি,
জননেন্দ্রিয়ের চর্মরোগ ও ফোঁড়া,
হেপাটাইটিস-বি ইত্যাদি। এসব
রোগের প্রধান লক্ষণগুলো হল: যননাঙ্গ
বা এর আশেপাশে ঘা/চুলকানি হওয়া,
প্রসাবের সময় ব্যথা ও জ্বালা করা,
যৌনাঙ্গ থেকে পুঁজ পড়া ইত্যাদি।
যৌনরোগ এবং এইচআইভির মধ্যে নিবিড়
সম্পর্ক বিদ্যমান। যাদের কোন যৌনরোগ
রয়েছে তাদের এইচআইভি দ্বরা
আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অন্যদের চেয়ে
অনেকগুণ বেশি।
এইডস অক্রান্ত ব্যাক্তির পরিচর্যা
মরণব্যাধি এইডস এর পরিণতি আমরা
জানি। একজন এইডস আক্রান্ত ব্যক্তি
অতি সহজেই অন্যকে সংক্রমিত করে না
এবং অক্রান্ত হওয়ার সাথে সাথে তার
কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলে না। তাই
আমাদের লক্ষ্য রাখা উচিত এইডস
আক্রান্ত ব্যক্তিকে আমাদের সামজ
থেকে যেন বিচ্ছিন্ন করা না হয়।
তাকে স্বাভাবিক জীবন-যাপনে
উৎসাহিত করতে হবে। সুতরাং তাদের
প্রতি আমাদের করনীয় হবে:
১) এইডস আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে
আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করা,
২) তাদেরকে মানসিকভাবে প্রফুল্র
রাখার চেষ্টা করা এবং তাদের প্রতি
যত্নবান হওয়া,
৩) তাদেরকে অন্যান্য সবার মত সমান
সুযোগ দেয়া,
৪) এইচআইভি অক্রান্তদের নিত্য-
নৈমিত্তিক কাজ থেকে বঞ্চিত না
করা,
৫) পরিবারের ও সমাজের অন্যান্য
সদস্যগণ কতৃক এদের প্রয়োজনীয়
চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।

সুত্রঃ ইন্টারনেট